ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের দ্রুত ও সর্বসামনেই বিচার করার সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি তেহরানের একটি কারাগার পরিদর্শনের সময় এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যেখানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কিছু অংশগ্রহণকারীকে অগ্নিকাণ্ড, শিরশ্ছেদ ও দাহের মতো হিংসাত্মক কাজের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে তিনি জোর দেন।
মোহসেনি এজেই কারাগার পরিদর্শনের সময় পাঁচ ঘণ্টা ধরে আটক বিক্ষোভকারীদের মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে পুড়িয়ে দেয়, শিরশ্ছেদ করে বা আগুনে নিক্ষেপ করে, তবে তার দায়িত্ব দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সকল মামলাকে সর্বসামনেই শোনার দাবি করেন, যাতে বিচার স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং জনগণের আস্থা অর্জিত হয়।
ইরানের সরকার সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, এই দাঙ্গার ফলে কয়েক হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই এখনও জেলখানায় রয়েছে। সংস্থাগুলো বিচার বিভাগের সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ পূর্বে অনুরূপ মামলায় কঠোর শাস্তি আরোপের রেকর্ড রয়েছে।
বিচার বিভাগের এই দ্রুত বিচার পরিকল্পনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার দাবি করে, দ্রুত এবং সর্বসামনেই বিচার করা হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে এবং জনসাধারণের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি, যেমন যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ ও আইনগত প্রতিরক্ষা, ক্ষুণ্ন করতে পারে।
মোহসেনি এজেই তেহরানের কারাগার পরিদর্শনের সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে, কীভাবে মামলাগুলোকে দ্রুত অগ্রসর করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা শেয়ার করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে দেরি না হয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অধিকার রক্ষা পায়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোকে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ করা হবে।
ইরানের বিচারিক ব্যবস্থার এই নতুন পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে। যদি দ্রুত বিচার কার্যকর হয়, তবে সরকারকে বিক্ষোভের মূল কারণগুলো, যেমন অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক অসন্তোষ, মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত নীতি গঠন করতে হবে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক নজরদারির দাবি করবে, যাতে কোনো অবৈধ শাস্তি না দেওয়া হয় এবং আটকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দ্রুত বিচার ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হবে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা এবং আদালতে প্রকাশ্য শুনানির তারিখ নির্ধারণ। বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে আদালতগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সকল প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষ্য দ্রুত প্রস্তুত করা যায়। এই প্রক্রিয়ার সময়, আইনগত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রতিরক্ষার সুযোগ বজায় থাকে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের বিচার বিভাগ বিক্ষোভের পরিণতি মোকাবিলার জন্য দ্রুত ও সর্বসামনেই বিচার চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। তবে মানবাধিকার সংস্থার সতর্কতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



