বাংলাদেশ সরকার আজ প্রথমবারের মতো শেয়ার্ড GPU ক্লাউড সুবিধা চালু করেছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং মেশিন লার্নিং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।
এই ক্লাউড সিস্টেমটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) ব্যবহার করে, যা সমান্তরাল গণনা দ্রুত সম্পন্ন করতে সক্ষম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপ লার্নিং কাজের জন্য প্রচলিত সিপিইউয়ের তুলনায় অধিক কার্যকর।
মন্ত্রিপরিষদে পোস্ট, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের চিফ অ্যাডভাইজারের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তাইয়েবের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ হাই‑টেক পার্ক অথরিটি (BHTPA) ২০টির বেশি NVIDIA Volta আর্কিটেকচারের টেনসর কোর্স GPU ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে এবং সেবা চালু করেছে।
এটি সরকারি খাতে প্রথম শেয়ার্ড ক্লাউড সুবিধা হিসেবে বিবেচিত, যেখানে একাধিক ব্যবহারকারী একই সময়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন GPU সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন।
ক্লাউডের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (BCC) ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার টিম, যা সিস্টেমের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক ডেটাসেট প্রশিক্ষণ, হুমকি বুদ্ধিমত্তা বিশ্লেষণ এবং ভূবিজ্ঞান মডেলিংসহ বিভিন্ন উচ্চক্ষমতা কম্পিউটিং (HPC) কাজ করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, একটি GPU প্রায় ৪৫টি সিপিইউয়ের সমতুল্য গণনা ক্ষমতা প্রদান করে, ফলে মোট সিস্টেমের ক্ষমতা ৯০০ সিপিইউ সমতুল্য বা তার বেশি বলে অনুমান করা হয়েছে।
শেয়ার্ড ক্লাউডের সর্বোচ্চ ডিপ লার্নিং ক্ষমতা ২,২৪০ টেরাFLOPS, যেখানে টেরাFLOPS এক ট্রিলিয়ন ফ্লোটিং‑পয়েন্ট অপারেশন প্রতি সেকেন্ডের মাপ, যা AI ও সুপারকম্পিউটিং পারফরম্যান্সের মানদণ্ড।
ব্যবহারকারীরা ছোট স্কেলের AI মডেল সিমুলেশন চালানো, মডেল প্রশিক্ষণ এবং ইনফারেন্স টেস্ট করার সুবিধা পাবেন, যা নতুন ডেটার ওপর প্রশিক্ষিত মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা এবং স্বতন্ত্র ডেভেলপারসহ সকল আগ্রহী পক্ষের জন্য উন্মুক্ত, যারা AI গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা চান।
শেয়ার্ড GPU ক্লাউডের প্রবর্তন দেশের AI ইকোসিস্টেমকে ত্বরান্বিত করবে, স্থানীয় গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের মডেল তৈরি করার সুযোগ দেবে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক পাঠ্যক্রমের বিকাশে সহায়তা করবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই অবকাঠামো দেশীয় স্টার্ট‑আপ ও সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর জন্যও শক্তিশালী গণনা সম্পদ সরবরাহ করবে, যা উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা তৈরিতে গতি দেবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে।



