চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ রাউজন ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের তথ্য জেলা পুলিশ অফিসের প্রেস কনফারেন্সে প্রকাশিত হয়েছে এবং ঘটনাটির পটভূমি নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার ইচ্ছা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডগুলো পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছিল এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বাসস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালিয়ে তোলার পরিকল্পনাও গৃহীত ছিল, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাওয়া হয়েছিল।
আক্রমণকারীরা বাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়ে সম্পত্তি ও মানবিক ক্ষতি ঘটায়, যদিও কোনো প্রাণহানি রেকর্ড করা যায়নি। ঘটনাস্থলে পাওয়া প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে, আগুন জ্বালানোর জন্য তরল জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এই কাজগুলোতে প্রায় ষোলো থেকে সতেরো জনের একটি দল যুক্ত ছিল, যারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ ভাগ করে নিয়েছিল। দলটি আক্রমণ পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারে সমন্বয় করে কাজ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল করা গ্রেফতারে ছয়জন নতুন সন্দেহভাজন অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে মোট গ্রেফতার সংখ্যা সাতজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রেফতারের তালিকায় মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবীর হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বারুয়া, মোহাম্মদ লোকমান এবং মোহাম্মদ পারভেজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে একজন সন্দেহভাজন মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যার সঙ্গে এই অগ্নিকাণ্ডের সংযোগের সন্দেহ রয়েছে। মনিরের গ্রেফতারও একই প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়েছিল।
অধিকাংশ গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে ব্যবহৃত জ্বালানি, গ্যাস সিলিন্ডার এবং অন্যান্য সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া একটি সিএনজি চালিত অটো-রিকশা এবং একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে, যা সন্দেহভাজনরা ব্যবহার করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল আহসান হাবিব পলাশ গ্রেফতারের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, গ্রেফতারের বেশিরভাগই একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য। তারা দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা নষ্ট করে নিজেদের নেতাদের দেশে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিল।
ডিপিআই জি গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের নাম প্রকাশ না করলেও, তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংগঠনটি দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
পলাশ আরও জানান, এক ব্যক্তি যিনি স্থানীয় নর্সারি ব্যবসা চালান, তিনি এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তার সঙ্গে অতিরিক্ত কয়েকজনের নামও পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক প্রাক্তন কমিশনারও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে সূত্র পাওয়া গেছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে পুলিশ সকল জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং আদালতে মামলার শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেবে। গ্রেফতারের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে, এবং অতিরিক্ত সন্দেহভাজন ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনের আগে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চট্টগ্রাম পুলিশ এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীলকে আইনের শিকলে আনা হবে।



