গবেষকরা সম্প্রতি একটি লতাযুক্ত কন্দের (ইয়াম) উদ্ভিদে এমন একটি কৌশল আবিষ্কার করেছেন, যেখানে এটি ছোট, উজ্জ্বল রঙের গঠন তৈরি করে যা প্রকৃত ফলের মতো দেখায়। এই গঠনগুলো পাখিদের আকৃষ্ট করে, ফলে পাখি এগুলো খেয়ে ফেললে কন্দের বীজ নতুন স্থানে পৌঁছে যায়। এই ঘটনা উদ্ভিদের বিস্তার বাড়াতে নতুন একটি উপায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই কন্দের প্রজাতি মূলত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে স্বাভাবিক, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃষ্টিবন ও কৃষি ক্ষেত্রের প্রান্তে দেখা যায়। গাছের লতা থেকে বেরিয়ে আসা ছোট, কমলা-লাল রঙের গঠনগুলো আকারে ছোট বেরির মতো, তবে প্রকৃতপক্ষে সেগুলো হল বায়ুতে গঠিত কন্দের কুঁড়ি।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই গঠনগুলোকে সত্যিকারের ফলের বদলে কন্দের কুঁড়ি (বুলবিল) বলা হয়। ফলের তুলনায় এদের মধ্যে কোনো বীজ থাকে না; বরং এগুলোতে সংরক্ষিত কন্দের টিস্যু থাকে, যা মাটিতে নেমে গেলে নতুন গাছের শিকড় গঠন করতে সক্ষম। ফলে, পাখি যখন এই কৃত্রিম বেরি গিলে ফেলবে, তখন কন্দের টিস্যু গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
ক্ষেত্র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাখির প্রজাতি—যেমন গাছের চিলিক, হরিণচিল এবং কিছু ছোট পাখি—এই কৃত্রিম বেরি গুলোকে ফলের মতোই গ্রহণ করে। পাখিরা গাছের শাখা থেকে এই গঠনগুলো তুলে খায় এবং পরে দূরবর্তী স্থানে মলত্যাগের মাধ্যমে কন্দের কুঁড়ি ছড়িয়ে দেয়।
গবেষকরা ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, পাখির হজম প্রক্রিয়ার পর কন্দের কুঁড়ি এখনও জীবিত থাকে এবং মাটিতে রোপণ করলে তা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই ফলাফল দেখায় যে পাখির গ্যাস্ট্রিক পরিবেশ কন্দের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, ফলে কন্দের বীজের দীর্ঘ দূরত্বে বিস্তার সম্ভব হয়।
এই ধরনের কন্দের কৃত্রিম বেরি পাখি-প্রসার (অ্যানিমাল-মেড সিড ডিসপার্সাল) পদ্ধতি উদ্ভিদ জগতে তুলনামূলকভাবে অপ্রচলিত। অধিকাংশ উদ্ভিদ ফলের মাধ্যমে বীজ ছড়ায়, তবে এই কন্দের ক্ষেত্রে ফলের বদলে কন্দের কুঁড়ি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পাখির আচরণকে কাজে লাগিয়ে বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে।
এই কৌশলটি বিশেষ করে আক্রমণাত্মক উদ্ভিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কন্দের দ্রুত বিস্তার স্থানীয় উদ্ভিদ বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে কিছু অঞ্চলে এই কন্দের আক্রমণজনিত সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়, যেখানে স্থানীয় কৃষি ফসলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে এই নতুন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে। কন্দের বিস্তার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পাখির আচরণকে লক্ষ্য করে কৌশল তৈরি করা যেতে পারে, যেমন নির্দিষ্ট সময়ে পাখির খাবার সরবরাহ কমিয়ে কন্দের কুঁড়ি গ্রহণ কমানো।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এই ঘটনাকে আরও বিশদে গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কন্দের কৃত্রিম বেরি পাখি-প্রসার পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত প্রভাব নির্ধারণ করা যায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্ভিদ কৌশল কীভাবে অন্যান্য প্রজাতিতে দেখা যাবে, তা জানার জন্য পর্যবেক্ষণ ও ডেটা সংগ্রহ অব্যাহত রাখা দরকার।



