১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ বুধবার, ঢাকা শহরে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি পাঁচ দিনের জন্য প্রদর্শনী ও শোনানির উদ্দেশ্যে পৌঁছেছে। ট্রফি নিরাপদে পরিবহন করে শহরের একটি সরকারি হলের প্রবেশদ্বারে রাখা হয় এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
ট্রফি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল সমিতির কর্মকর্তারা, কোচবৃন্দ এবং নির্বাচিত খেলোয়াড়রা একত্রিত হয়ে একটি শোনানিতে অংশ নেন। শোনানির মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বকাপ সংক্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ভিত্তি গঠন করা।
সমিতির প্রধান কর্মকর্তা সাকিব শোনানির শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো শুধুমাত্র প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মাঠের খেলোয়াড়দের মতামত ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করেই বিশ্বকাপের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।”
সাকিবের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে খেলোয়াড়দের সরাসরি ইনপুট না থাকলে নীতি প্রণয়ন প্রায়শই বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই হয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের দৃষ্টিকোণ থেকে ট্যাকটিক্যাল, শারীরিক এবং মানসিক চাহিদা বোঝা জরুরি।
শোনানিতে উপস্থিত খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সাধারণভাবে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। তারা সাকিবের মতামতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাদের মতামত শোনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে। কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করেও, খেলোয়াড়রা একমত যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
এই ট্রফি প্রদর্শনী দেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্বে কখনো ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি বাংলাদেশে না দেখার সুযোগ পায়নি, তাই এই উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
জনসাধারণের জন্য ট্রফি প্রদর্শনীটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এবং প্রবেশের জন্য নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। দর্শনার্থীরা ট্রফি ঘিরে ছবি তোলার পাশাপাশি ফুটবল সংক্রান্ত তথ্যবহুল প্যানেলও দেখতে পারবেন।
শোনানির পরবর্তী দিনগুলোতে সমিতি বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে খেলোয়াড়, কোচ এবং বিশ্লেষকরা একত্রে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
সাকিব উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমন্বিত আলোচনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খেলোয়াড়দের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ট্রফি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর, সমিতি ট্রফি পুনরায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফেরত পাঠাবে, তবে এই সফর দেশের ফুটবলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা শহরে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি উপস্থিতি এবং সাকিবের খেলোয়াড়-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের আহ্বান ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



