বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ১৫তম গ্যাপেক্সপো‑২০২৬ ও গার্মেনটেক বাংলাদেশ‑২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসা‑বাণিজ্যের জন্য সহজ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
খসরু বলেন, ব্যবসা‑বাণিজ্যের সব সেক্টরে সরকারী হস্তক্ষেপের মাত্রা কমাতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা স্বচ্ছ ও ন্যায্য শর্তে কাজ করতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো ধরণের পৃষ্ঠপোষকতা বা অনানুষ্ঠানিক সুবিধা ব্যবসা করার সুযোগ না দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্যাপেক্সপো‑২০২৬ ও গার্মেনটেকের সমন্বয়ে দেশের গার্মেন্টস সেক্টরের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এই ইভেন্টগুলো দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খসরু ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় সরাসরি সরকারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জোর দেন, ব্যবসা‑সংক্রান্ত অনুমোদন, নিবন্ধন ও অন্যান্য সেবা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করতে সরকারী সেবা একীভূত করে একক পোর্টাল চালু করার কথা বলা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা একাধিক দফতরে ঘুরে না গিয়ে এক জায়গা থেকে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সময় ও খরচের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ব্যবসায়ীরা নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।
খসরু ও রহমানের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, ব্যবসা‑বাণিজ্যের উন্নয়নে সরকারি নীতি ও বাস্তবিক সহায়তার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্ত তৈরি হলে বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি রপ্তানি ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
বাণিজ্যিক পরিবেশের সরলীকরণে যদি পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিক অপ্রতিযোগিতামূলক চর্চা নির্মূল হয়, তবে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। ফলে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ডিজিটাল সেবার বিস্তারে তথ্য নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর সুবিধা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি এই দিকগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে ব্যবসা‑সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা হবে এবং প্রক্রিয়ার গতি বাড়বে।
অবশেষে, খসরু উল্লেখ করেন, ব্যবসা‑বাণিজ্যের পরিবেশকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে হলে আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা, অতিরিক্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া হ্রাস এবং প্রযুক্তি‑ভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ অপরিহার্য। এই নীতি বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
এইসব ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, পরবর্তী কয়েক বছরে গার্মেন্টস সেক্টরের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন শিল্পখাতের উত্থান ঘটবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করবে।



