জাপানের এক কেয়ার ফ্যাসিলিটিতে ৯২ বছর বয়সী শ্রীমতি হিসাকো সাকাই টেকেন ৮ গেমের ই‑স্পোর্টস টুর্নামেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই প্রতিযোগিতা দেশের বয়স্ক নাগরিকদের জন্য চালু করা “কেয়ার ই‑স্পোর্টস” প্রকল্পের অংশ। গেমের নিয়ম মেনে চলা এবং প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা তার প্রধান লক্ষ্য ছিল।
কেয়ার ই‑স্পোর্টস উদ্যোগটি বয়স্কদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গেমকে একটি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে। জাপানের দ্রুত বয়সবৃদ্ধি এবং একাকিত্বের সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে গৃহীত হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দলগত অনুশীলন এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।
হিসাকো সাকাই গেমের সঙ্গে প্রথমবারের মতো পরিচিত হন যখন তিনি তার যত্নশীল প্রতিষ্ঠানে এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে যোগ দেন। তার পূর্বের জীবনে ভিডিও গেমের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও, তিনি দ্রুত গেমের মৌলিক নিয়ন্ত্রণ শিখতে সক্ষম হন। তার বয়সের কারণে ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণে দেরি হওয়া সত্ত্বেও, তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞা এবং কৌতুহল দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ সেশনগুলো স্বেচ্ছাসেবক এবং ফ্যাসিলিটি কর্মীদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। তারা হিসাকোকে টেকেন ৮-এর মৌলিক মেকানিক্স, সময়নির্ধারণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি শেখান। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি গেমের জটিলতা বুঝতে এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ পূর্বাভাসে দক্ষতা অর্জন করেন।
টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে হিসাকো ধারাবাহিকভাবে মনোযোগ বজায় রাখেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণকে সঠিক সময়ে ব্লক করেন। মধ্যবর্তী পর্যায়ে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি অন্যান্য বয়স্ক প্রতিযোগীদের তুলনায় উচ্চ স্কোর নিয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জিতেন।
এই সাফল্য গেমিং সংস্কৃতির তরুণ-কেন্দ্রিক ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাধারণত ই‑স্পোর্টসকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং শারীরিক চটপটে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে হিসাকোর পারফরম্যান্স দেখায় যে কৌশল, প্যাটার্ন চিন্তা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ বয়সের সঙ্গে কমে না। তার উদাহরণে দেখা যায় যে বয়স বাড়লেও মানসিক চটপটে থাকা সম্ভব।
গবেষকরা উল্লেখ করেন যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিফ্লেক্স ধীর হতে পারে, তবে কৌশলগত চিন্তা এবং স্মৃতি সংরক্ষণে উন্নতি হতে পারে। হিসাকোর গেমে ধারাবাহিকতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার মস্তিষ্কের কার্যকরী ক্ষমতা বজায় রাখার প্রমাণ দেয়। এ ধরনের কার্যক্রম বয়স্কদের জন্য মানসিক ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে এবং ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
জাপানের জনসংখ্যা দ্রুত বয়সবৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে একাকিত্ব, জ্ঞানীয় হ্রাস এবং চলাচলের সীমাবদ্ধতা বাড়ছে। কেয়ার ই‑স্পোর্টস প্রকল্পটি এই সমস্যাগুলোর সমাধানে বয়স্কদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। গেমের মাধ্যমে তারা শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ না হয়ে মানসিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারে।
টেকেন ৮ গেমটি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং কাঠামোগত মানসিক প্রশিক্ষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত অনুশীলন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্মৃতি শক্তি এবং সমন্বয় দক্ষতা বাড়ায়। এছাড়া গেমের মধ্যে দলগত যোগাযোগ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।
হিসাকোর জয় কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বয়স্কদের জন্য গেমিংয়ের সম্ভাবনা প্রদর্শন করে। এই ধরনের উদাহরণ অন্যান্য দেশেও বয়স্কদের জন্য অনুরূপ প্রোগ্রাম চালু করার প্রেরণা দিতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কেয়ার ফ্যাসিলিটি গেমকে থেরাপিউটিক টুল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
প্রকল্পের সংগঠকরা হিসাকোর সাফল্যকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এবং আরও বেশি বয়স্ককে গেমিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছেন। তারা পরিকল্পনা করছেন যে প্রশিক্ষণ সেশনগুলোকে আরও বিস্তৃত করে বিভিন্ন গেমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। এভাবে বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গেমের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।
সারসংক্ষেপে, ৯২ বছর বয়সী হিসাকো সাকাই টেকেন ৮ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বয়সের সীমা ভেঙে দিয়েছেন এবং বয়স্কদের জন্য গেমিংকে একটি কার্যকরী স্বাস্থ্যসেবা বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার উদাহরণ ভবিষ্যতে বয়স্কদের জন্য আরও সৃজনশীল এবং সক্রিয় জীবনযাপনের পথ খুলে দেবে।



