27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ নোটিশ, ভোট চাওয়ার ভিডিওতে আচরণবিধি লঙ্ঘন

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ নোটিশ, ভোট চাওয়ার ভিডিওতে আচরণবিধি লঙ্ঘন

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া‑লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশটি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান রূপণ কুমার দাশ ১৪ জানুয়ারি সকালেই প্রদান করেন এবং শাহজাহানকে আগামী সোমবার বিকাল ১১ টায় কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।

নোটিশের ভিত্তি হল ২ জানুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতিভোজ, যেখানে শাহজাহান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। একই অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিন দাঁড়িপাল্লায় ভোটের আবেদন জানিয়ে উপস্থিতদের সমর্থন আহ্বান করেন।

নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সভাপতি রূপণ কুমার দাশের মতে, প্রীতিভোজের সময় দাঁড়িপাল্লায় ভোটের আবেদন করা নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধি লঙ্ঘনের শর্ত পূরণ করে, কারণ এটি নির্বাচনী সময়ের আগে করা হয়েছে এবং ভোটারকে সরাসরি প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য বহন করে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম নোটিশের কারণ নিশ্চিত করে বলেন, “প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে, তাই শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থীর লিখিত ব্যাখ্যা সংগ্রহ করা হবে।

জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিন নোটিশের বিষয় জানার পর স্বীকার করেন যে তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোটের আবেদন করেছেন, তবে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে তা তিনি জানতেন না। তিনি ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবেন এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নোটিশের জবাব দেবেন।

শোকজ নোটিশের শর্ত অনুসারে, শাহজাহান চৌধুরীকে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে, যা নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির রেকর্ডে সংযোজন হবে। এই ব্যাখ্যা না দিলে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে আর্থিক জরিমানা এবং নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে তার যোগ্যতা বাতিল করা অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনী প্রচারণা নিয়মের লঙ্ঘন নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, এই ধরনের নোটিশ প্রার্থীর নির্বাচনী কৌশল ও পার্টির ইমেজে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়। তারা উল্লেখ করেন যে শোকজ নোটিশের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায় এবং অন্য প্রার্থীদেরও সতর্ক করে।

জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সংগঠনগুলো নোটিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা দেয়নি, তবে তারা শীঘ্রই পার্টির উচ্চতর নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে। পার্টি সাধারণত নির্বাচনী নীতি মেনে চলার ওপর জোর দেয় এবং এই ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি প্রয়োগের নীতি বজায় রাখে।

চট্টগ্রাম-১৫ আসন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র, যেখানে পূর্বের দু’বারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। এই আসনে ভোটের ফলাফল জাতীয় স্তরে পার্টির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই শোকজ নোটিশের প্রভাব বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি নির্বাচন আইন প্রয়োগের জন্য স্বতন্ত্র সংস্থা, যার ক্ষমতা নোটিশ, শাস্তি এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের আদেশ জারি করা। শোকজ নোটিশের মাধ্যমে কমিটি প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।

শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার পর, কমিটি নোটিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, যা তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতা ও পার্টির কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হয়, তবে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে, যা তার ভোটার সমর্থন ও নির্বাচনী প্রচারণা উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।

এই নোটিশের পরবর্তী পর্যায়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মন্তব্য এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় প্রত্যাশিত, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রার্থীর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments