বুধবার সকাল, সাতকানিয়া জেলার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) উপস্থিত থেকে নির্বাচনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটাতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সবার সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে উপদেষ্টা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণের পর তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বর্ডার গার্ডের ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি দেশের সীমান্ত রক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে এবং আজকের দিনে এটি ৩,০০০ নতুন সদস্যকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই বাহিনী ২৩০ বছরের ঐতিহ্যকে আধুনিক সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনর্গঠন করে একটি সুসংগঠিত, চৌকষ এবং পেশাদার সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলেছে।
সীমান্তের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেখা রক্ষা করার পাশাপাশি বর্ডার গার্ড চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ায় এই বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শৃঙ্খলা সৈনিকের জীবনের মূল অলংকার এবং আদেশ পালন ও দায়িত্বে কখনো পিছপা না হওয়া সত্যিকারের সৈনিকের বৈশিষ্ট্য। তিনি সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য এবং উদ্যমকে একটি শক্তিশালী বাহিনীর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই গুণাবলি নতুন প্রজন্মের সৈনিককে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বিডি-গার্ডের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানটি দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচন মৌসুমে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ফোর্স বাড়ানো এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, যা বিশৃঙ্খলা রোধে সহায়তা করবে। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা কঠিন, তাই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি ও সতর্কতা অপরিহার্য।
নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে এবং নির্বাচনের পূর্বে ও পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা কেবল সীমান্ত রক্ষা নয়, দেশের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দিকেও বিস্তৃত। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।
অবশেষে, উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের দেশপ্রেমের চেতনা জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন এবং সকলকে আহ্বান জানান, নির্বাচনের সময় শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে। তিনি আশাবাদী যে, সঠিক প্রস্তুতি ও সকলের সহযোগিতায় দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ভয়ে এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।



