পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) এর ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পে মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এই প্রস্তাব আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২৪ আগস্ট ২০২১ তারিখে ৭৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়। একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হয় এবং মূলত ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সম্পন্ন করার লক্ষ্য ছিল।
প্রকল্পের সময়সীমা এক বছর বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও, ঐ সময়ে ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৪৩.২২ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ব্যয় ৩৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকায় সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
এখন পিজিসিবি অতিরিক্ত দুই বছর সাত মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় ৩৩৫ কোটি ২ লাখ টাকার অতিরিক্ত যোগের প্রস্তাব দিচ্ছে। সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হলে প্রকল্পের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত বাড়বে এবং মোট ব্যয় ১,১০৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় পৌঁছাবে।
বিনিময় হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি নতুন বাজেটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডলার রেটের ওঠানামা ও আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের দাম বাড়ার ফলে পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ব্যয় প্রয়োজনীয় হয়েছে।
প্রকল্পের কাজের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন, নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন, ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন, ডাবল ও সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের রিকন্ডাক্টরিং এবং নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় পিজিসিবির অধীনে ২৫টি জেলায় গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনে কাজ চালানোর কথা ছিল, তবে সংশোধিত প্রস্তাবে এই সংখ্যা ১৯টি জেলায় কমিয়ে আনা হয়েছে।
বিশেষ করে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার দুটি ট্রান্সফরমার, পূর্বসাদীপুর উপকেন্দ্রের ক্যাপাসিটর ব্যাংক, নওগাঁয়ের ক্যাপাসিটর ব্যাংক, কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ক্ষমতাবর্ধন কাজ এবং কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহের ভালুকা, নেত্রকোনা, নওগাঁর নিয়ামতপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপকেন্দ্রের ক্যাপাসিটর ব্যাংকসহ কয়েকটি আইটেম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের এই অতিরিক্ত বৃদ্ধি সরকারী আর্থিক ব্যয়কে চাপের মধ্যে ফেলবে এবং বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা বাড়াবে। অতিরিক্ত ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ার ফলে প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
শক্তি সেক্টরের বাজারে এই ধীরগতি এবং ব্যয়বৃদ্ধি সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতি, বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন দ্রুত না হলে প্রকল্পের সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে, যা দেশের গ্রিড আধুনিকায়ন ও শক্তি নিরাপত্তার লক্ষ্যে বাধা সৃষ্টি করবে।
সারসংক্ষেপে, পিজিসিবি এখন মেয়াদ ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়ে প্রকল্পের পুনর্গঠন প্রস্তাব করেছে। অনুমোদন পেলে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, তবে বাজেটের অতিরিক্ত চাপ এবং কাজের পরিধি হ্রাসের ফলে প্রকল্পের সামগ্রিক লাভজনকতা ও সময়সীমা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।



