বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু ১৪ জানুয়ারি বুধবার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত ১৫তম গ্যাপেক্সো‑২০২৬ ও গার্মেনটেক বাংলাদেশ‑২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও গণতান্ত্রিক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ব্যবসা‑বাণিজ্যসহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের শিকল রয়েছে, যা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
আমীর খসরু, যিনি ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রী পদে ছিলেন, আজকের বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সমতা স্থাপনের কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নীতিগুলোকেও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গঠন করা উচিত, যাতে নীতি‑নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শিল্প সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে সহজতর করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। খসরু উল্লেখ করেন, বর্তমান ব্যবসা‑বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় জটিল আমলাতান্ত্রিক ধাপ ও অনিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতার প্রভাব রয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের আস্থা ক্ষয় করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ আর থাকবে না; সব ধরণের ব্যবসা সমান শর্তে পরিচালিত হওয়া উচিত। এ জন্য তিনি সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ কমিয়ে, ব্যবসায়ীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ সেবা প্রদান করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
খসরু আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক লেনদেনের অধিকাংশ অংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে, যাতে কাগজপত্রের জটিলতা ও সময়সীমা হ্রাস পায়। তিনি বলেন, এই ধরনের ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ব্যবসা সহজ করবে না, বরং দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্ভাবনাও কমাবে।
এদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। সরকার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ভোগান্তি কমাতে কাজ করছে, এ কথায় তিনি খসরুর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।
খসরু বলেন, আমলাতন্ত্রের সরাসরি সংস্পর্শ কমিয়ে, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা হলে খরচ ও সময়ের সাশ্রয় হবে। তিনি ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ডিজিটাল সেবার পরিসর বাড়িয়ে, সব ধরণের ব্যবসায়িক অনুমোদন ও নিবন্ধন এক ক্লিকেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখছেন।
এই ঘোষণার পর, উপস্থিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, যদি নিয়মগুলো বাস্তবিকভাবে সহজ হয়, তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, খসরুর এই দাবি বিএনপির অর্থনৈতিক নীতি পুনর্গঠনের একটি অংশ হতে পারে, যা পার্টির ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। তিনি যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হন, তবে সরকার‑বিপক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি পার্লামেন্টে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নে সংশোধনী আনা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, আমীর খসরু দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে সমানভাবে গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানিয়ে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দূর করে, পৃষ্ঠপোষকতা নির্মূল করে এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যবসা‑বাণিজ্যকে সহজতর করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো যদি কার্যকর হয়, তবে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে।



