ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি তীব্র, দলগুলো প্রশিক্ষণরত এবং ভক্তরা টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তালিকায় যুক্ত হওয়া সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
গত ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আফ্রিকার দুটি শক্তিশালী ফুটবল জাতি—সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে যুক্ত করে। এই পদক্ষেপের ফলে এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি কঠিন হয়ে পড়ে, যদিও অন্যান্য দেশগুলো এখনও স্বাভাবিকভাবে ভিসা পেতে পারে।
মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে এই দুই দেশের ভক্তরা মাঠে উপস্থিত থেকে দলকে উত্সাহিত করলেও, বিশ্বকাপের ভিসা প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। অনেক সমর্থক এখনও ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন এবং প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তারা কি টুর্নামেন্টের সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে কিনা।
সেনেগালের একজন সমর্থক জিব্রিল গুইয়ে উল্লেখ করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশের মানুষকে প্রবেশের অনুমতি না দেয়, তবে এমন একটি বৈশ্বিক ইভেন্টের আয়োজন করা উচিত নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও সুযোগ নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের কর্তব্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পেছনে নিরাপত্তা যাচাই ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ঘাটতি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ইরান ও হাইতি এই তালিকায় রয়েছে এবং উভয় দেশই এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে, ফলে তাদের সমর্থকও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
তবে টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়, টিম অফিসিয়াল এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়; তারা ভিসা প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি পাবে এবং স্বাভাবিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
সেনেগালের নারী সমর্থক সংগঠনের সভাপতি ফাতো দিয়েডিউ জানান, তারা বিশ্বকাপ দেখতে ইচ্ছুক, তবে কীভাবে ভ্রমণ ব্যবস্থা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি যোগ করেন, “আমরা শুধু অপেক্ষা করছি। হয়তো বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলাবে, এখন অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব নয়।” এই মন্তব্যে ভক্তদের হতাশা ও আশার মিশ্রণ স্পষ্ট।
সেনেগাল ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলবে। চার দিন পর একই স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা বলিভিয়া, সুরিনাম ও ইরাকের প্লে-অফ বিজয়ীর সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
আইভরি কোস্টের দল যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি শহরে ম্যাচ খেলবে। প্রথমে ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে খেলা হবে, এরপর টরন্টোতে জার্মানির সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই সময়সূচি ভক্তদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করা কঠিন করে তুলেছে, বিশেষ করে ভিসা সমস্যার মুখে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় উভয় দেশের সমর্থক শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়া সম্ভব হলে, তারা টুর্নামেন্টের উন্মাদনায় অংশ নিতে পারবে। এখন সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের, যাতে ফুটবলের উত্সাহীরা তাদের প্রিয় দলকে সরাসরি সমর্থন করতে পারে।



