22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকগাজায় তীব্র শীতের ফলে ২৪ জনের মৃত্যু, যার মধ্যে ২১ শিশু

গাজায় তীব্র শীতের ফলে ২৪ জনের মৃত্যু, যার মধ্যে ২১ শিশু

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে যে, তীব্র শীত ও হিমাঙ্কছোঁয়া তাপমাত্রার কারণে গাজা উপত্যকায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৪-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ২১ শিশু। এই তথ্য সরকারী বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়েছে এবং শীতের তীব্রতা মানবিক সংকটকে বাড়িয়ে তুলেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সব মৃতই শরণার্থী ক্যাম্পে বাস করা ফিলিস্তিনি, যারা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয় পেতে পারেনি। শীতের শুরুতে সাতটি শিশুর মৃত্যু ঘটায়, যা মোট মৃত্যুর সংখ্যা এই পর্যায়ে নিয়ে আসে।

শীতের তীব্রতা বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ওপর বড় হুমকি তৈরি করেছে; হিমাঙ্কছোঁয়া তাপমাত্রা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার পাশাপাশি শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। গরম কাপড়ের অভাবের ফলে আক্রান্ত পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত ঝুঁকির মুখে ফেলে।

আবহাওয়ায় নিম্নচাপ ও তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায় সাত হাজার তাবু ধ্বংস হয়েছে। দেইর আল-বালাহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাবু ভেসে গিয়ে হাজার হাজার পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে শীত কাটাতে বাধ্য করেছে।

ইসরায়েলি অবরোধ ও ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের ফলে গাজার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি এমন শিবিরে বসবাস করছেন, যেখানে মৌলিক জীবনের শর্তই নেই।

ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা মানবিক সাহায্য ও জ্বালানির প্রবেশকে বাধা দিচ্ছে, ফলে হিটিং ব্যবস্থা চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরম কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রভাব তীব্রতর হচ্ছে।

গাজা সরকার ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করে, এটিকে ধীরে ধীরে হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। শীতবস্ত্র ও কম্বল না থাকায় শিশুদের মৃত্যুহার বাড়ছে, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, শীতের তীব্রতা ও মানবিক সংকট আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং ত্বরিত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মিসরসহ বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় শীতের তীব্রতা মোকাবিলার জন্য জরুরি সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সীমাবদ্ধতা বজায় থাকায় এই সাহায্যগুলো গাজায় পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করছে।

ইসরায়েলি বাহিনী ২০২৩ অক্টোবর থেকে গাজায় ৭১,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত করেছে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সময়ে ১,৭১,০০০ এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী আকাশীয় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এই অব্যাহত হুমকি শীতের তীব্রতাকে বাড়িয়ে তুলছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলো গাজায় তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ত্বরিত শীতকালীন বস্ত্র, গরম খাবার ও জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান জানাচ্ছে। তারা মানবিক সাহায্যের প্রবাহ দ্রুততর করার জন্য ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করছে।

গাজার জনগণ এখন মৌলিক নিরাপত্তা, তাপ ও আশ্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও হস্তক্ষেপের অপেক্ষায়। শীতের তীব্রতা এবং মানবিক সংকটের সমন্বয় গাজার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে, তাই ত্বরিত এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments