শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে রোগীকে ঢাকা‑শ্রীরতপুর সড়কে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দুইবার অ্যাম্বুলেন্স চক্রের বাধা সৃষ্টি হয়। বাধার ফলে রোগী শ্রী জামশেদ আলী ঢালী (৭০), যিনি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম থেকে এসেছিলেন, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে মারা যান।
রোগী গতকাল সকাল প্রায় নয়টায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা রোগের তীব্রতা বিবেচনা করে উন্নত সেবা পাওয়ার জন্য ঢাকা‑এর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা বিকাল প্রায় একটায় ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগীকে রওনা করেন।
অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে ওঠানোর পর অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হয়। ফলে পরিবারটি পরিচিত কোনো স্থানীয় সেবার বদলে পাঁচ হাজার টাকায় অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স বেছে নেয় এবং ঢাকা দিকে রওনা হয়।
রওনা হওয়ার কিছু সময় পর, ঢাকা‑শ্রীরতপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা গাড়িটিকে আটকে দেয়। চক্রটি সুমন খান নেতৃত্বে ৮‑১০ জন লোক নিয়ে গঠিত এবং তারা রোগীকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সে না নিয়ে অন্যের মাধ্যমে পরিবহন করা নিয়ে আপত্তি জানায়।
চক্রের সদস্যরা রোগীকে নিয়ে গাড়িটিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আটকে রাখে। এই সময়ে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। পরিবারটি স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে গাড়িটিকে আবার চালু করতে সক্ষম হয়, তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে রোগী বিকেল চারটার দিকে মারা যান।
অ্যাম্বুলেন্স চক্রের দ্বিতীয় বাধা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিকটবর্তী জামতলা এলাকায় ঘটে। এখানে আবার প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের জন্য গাড়ি আটকে রাখা হয়। বাধা দূর করার পর গাড়ি আবার চলতে থাকে, তবে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা ইতিমধ্যে অস্থির।
রোগীর নাতি জোবায়ের হোসেন জানান, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারার কারণেই মৃত্যু ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে গাড়ি আটকে রাখার সময়ই তার শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের কার্যক্রমের ফলে রোগীর গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য জরুরি সেবা গাড়ির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এই ঘটনার পর, স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারকরা অ্যাম্বুলেন্স চক্রের মত অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রোগীর দ্রুত সেবা পেতে রাস্তায় বাধা না দেয়া, বিশেষ করে জরুরি পরিবহন ক্ষেত্রে, রোগীর জীবন রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেবা প্রদানকারীর তালিকা প্রকাশ, জরুরি গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট লেন নিশ্চিত করা এবং চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিতে হবে।
রোগীর পরিবার এখন শোকাহত, তবে তারা একই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। রোগীর মৃত্যু একটি কঠিন শোকের বিষয়, তবে এটি জরুরি সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।
এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে রোধ করতে, রোগী ও তাদের পরিবারকে সঠিকভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সরকারি অনুমোদিত অ্যাম্বুলেন্স সেবা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, জরুরি সেবার সময় রাস্তায় কোনো বাধা না দেয়া, বিশেষ করে রোগীকে গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে সহায়তা করা, স্বাস্থ্য সিস্টেমের মৌলিক দায়িত্ব।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন, জরুরি সেবা গাড়ির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কী ধরনের নীতি প্রয়োজন? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



