বিএনপি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করে গুলশানে একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচনী নির্দেশনা, পর্যবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্র হিসেবে গুলশানের হাউস ১০সি, রোড ৯০-এ অবস্থিত চারতলা ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে পার্টির ইলেকশন স্টিয়ারিং অফিস গঠন করা হয়েছে। পার্টি এই অফিস থেকে গ্রাসরুট নেতাদের প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন কৌশল এবং নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের কাজ সমন্বয় করে, যাতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সঠিক বার্তা ও কৌশল প্রয়োগ করা যায়।
ইলেকশন স্টিয়ারিং অফিসটি পার্টির নির্বাচনী পরিকল্পনার কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। এখানে গ্রাসরুট নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে, যা তাদের ক্যাম্পেইন পরিচালনা ও ভোটার সংযোগে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের কৌশল নির্ধারণ এবং বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার তথ্য বিশ্লেষণ করে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান নিয়মিতভাবে এই অফিসে উপস্থিত থাকেন এবং প্রায়শই কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে। তারিকের পরিবারের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
অফিসের জন্য পার্টি একটি চারতলা ভবন ভাড়া নিয়েছে, যা গুলশানের হাউস ১০সি, রোড ৯০-এ অবস্থিত। এই ভবনে একটি গবেষণা সেলও কাজ করছে, যা ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণে সহায়তা করে। গবেষণা সেলটি নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ, ভোটার প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত সুপারিশ প্রদান করে।
অফিসে কাজ করা অনেক কর্মী জাটিয়াতাবাদী ছাত্রদল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা ও সংগঠক। এদের উপস্থিতি পার্টির যুব সংগঠন ও সহায়ক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়কে শক্তিশালী করে, ফলে গ্রাসরুট স্তরে কার্যকরী যোগাযোগ নিশ্চিত হয়।
ইলেকশন স্টিয়ারিং কমিটি নির্বাচনী লজিস্টিক্স সমন্বয় এবং প্রার্থীদের পার্টির নির্দেশনা অনুসরণ 여부 পর্যবেক্ষণ করে। এই কমিটি প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন কার্যক্রম, ভোটার সংযোগ এবং পার্টির কেন্দ্রীয় নীতিমালা মেনে চলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালু করেছে।
একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ দল প্রার্থীদের কার্যকলাপ, ভোটার সম্পৃক্ততা, পার্টির নির্দেশনা মেনে চলা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিবিড়ভাবে ট্র্যাক করে। দলটি প্রার্থীদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং ক্যাম্পেইন মেসেজের সামঞ্জস্যতা মূল্যায়ন করে।
একজন সিনিয়র সংগঠক, যিনি নাম প্রকাশ না করতে চেয়েছেন, জানান যে স্টিয়ারিং কমিটি প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন পদ্ধতি, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মন্তব্য পার্টির অভ্যন্তরীণ তত্ত্বাবধানের কঠোরতা প্রকাশ করে।
ডিজিটাল সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পার্টি একটি হটলাইন নম্বর, নির্বাচনী এলাকার ভিত্তিতে কমিটি, নিবেদিত সামাজিক মিডিয়া টিম এবং আইনি সহায়তা কমিটি গঠন করেছে। হটলাইনটি ভোটারদের প্রশ্ন ও অভিযোগের দ্রুত সমাধান প্রদান করে, আর সামাজিক মিডিয়া টিমগুলো পার্টির বার্তা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার ও প্রতিক্রিয়া পরিচালনা করে। আইনি সহায়তা কমিটি প্রার্থীদের ও কর্মীদের আইনি সমস্যায় সহায়তা প্রদান করে।
আইটি সেলটি প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে প্রচারিত ভুল তথ্যের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। পার্টি দাবি করে যে বিরোধী দলগুলো ভুল তথ্য ছড়িয়ে ভোটারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, আর আইটি সেল এই ধরনের প্রচারকে চিহ্নিত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই কেন্দ্রীয়কৃত ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী দল উল্লেখ করেছে যে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনকে সীমিত করতে পারে এবং গ্রাসরুট স্তরে স্বতন্ত্র উদ্যোগকে বাধা দিতে পারে। তবে পার্টি নেতৃত্ব এই ব্যবস্থা ভোটার সংযোগ ও ক্যাম্পেইনের কার্যকারিতা বাড়াতে অপরিহার্য বলে যুক্তি দিয়েছে।
ভবিষ্যতে পার্টি এই কেন্দ্রীয় সিস্টেমের মাধ্যমে প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়িয়ে, ডিজিটাল মিডিয়ায় উপস্থিতি শক্তিশালী করে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এই কাঠামোর কার্যকারিতা এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় কতটা সফল হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করবে।



