গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস‑ফ্রেডেরিক নিলসেন ১৩ জানুয়ারি কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশের ভবিষ্যৎ সংযোগের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ভূ‑রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যদি ডেনমার্ক অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে তারা ডেনমার্ককে বেছে নেবে। এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক দখল হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
মেটে ফ্রেডেরিকসেন নিলসেনের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, নিকটস্থ মিত্রের কাছ থেকে আসা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য চাপ’ মোকাবেলা করা সহজ কাজ নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হুমকিকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর অনধিকৃত চাপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত সোমবার গ্রিনল্যান্ড সরকার একটি পৃথক বিবৃতিতে ট্রাম্পের দখল হুমকিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রিনল্যান্ড ডেনিশ কমনওয়েলথের অংশ এবং ন্যাটো সদস্য হিসেবে তার প্রতিরক্ষা ন্যাটোর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। ট্রাম্পের ‘একভাবে না হলে অন্যভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র বিরক্তি সৃষ্টি করেছে এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরে সম্ভাব্য সংকটের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সঙ্গে একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড জানান, ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষাপটে তারা সরাসরি রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করার অনুরোধ করেছেন।
রাসমুসেনের মতে, আলোচনার বিষয়গুলোকে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকে। গ্রিনল্যান্ডের নেতারা আশা করেন, এই বৈঠকই ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক দাবিগুলোকে থামানোর মূল চাবিকাঠি হবে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৬,০০০ জনের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ধারণ করে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে, নিলসেনের স্পষ্ট অবস্থান এবং ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধতা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
গ্রিনল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত নেটো ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে ডেনমার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে, গ্রিনল্যান্ড তার প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে চায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিলসেনের ডেনমার্কের সঙ্গে সংযুক্তি নিশ্চিত করার ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হুমকির মুখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সমর্থন এবং আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র‑ডেনমার্ক‑গ্রিনল্যান্ড বৈঠক এই বিষয়ের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই আলোচনার ফলাফল গ্রিনল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে।



