ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি সমর্থন জানান। তিনি জোর দিয়ে বললেন, ইরানের দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থা, যা প্রচুর প্রাণহানি ঘটিয়েছে, তা পরিবর্তন হওয়া দরকার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সব কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম হিংসা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বৈঠক হবে না বলে স্পষ্ট করে জানান।
জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন যখন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সংখ্যা বেড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তার বক্তব্যের পেছনে ইউক্রেনের রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল সরবরাহের প্রতি অব্যক্ত অসন্তোষ রয়েছে। ইরানের এই সামরিক সহায়তা কিয়েভের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জোরদার হয়েছে।
ইরানের গৃহযুদ্ধের মতো বিক্ষোভে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে ইরানি দূতাবাসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, ইরানের কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে ফেলে। এই দেশগুলো ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা দাবি করে, যা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ট্রাম্পের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্মমতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বা আলোচনার সুযোগ থাকবে না। তিনি ইরানের সরকারকে সতর্ক করে, যদি তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালিয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আরোপিত হবে।
ট্রাম্পের একই বার্তায় তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ বলে প্রশংসা করে, তাদেরকে সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণকে স্বতন্ত্রভাবে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করা হবে এবং ভবিষ্যতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এছাড়াও ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক আক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তিনি ইরানের সরকারকে সতর্ক করে, যদি তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মমতা চালিয়ে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প বিবেচনা করা হবে। এই সতর্কতা ইরানের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলেন, জেলেনস্কির ইরানের শাসন পরিবর্তনের আহ্বান মূলত রাশিয়ার যুদ্ধক্ষমতা কমাতে ইরানের সামরিক সরবরাহ বন্ধ করার কৌশলগত লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে। ইরানের বর্তমান শাসন যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রোন ও মিসাইলের সরবরাহে বড় বাধা সৃষ্টি হবে।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেন, ইরানের শাসন পরিবর্তন হলে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা ইউক্রেনের যুদ্ধের গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে। একই সঙ্গে, ইরানের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়বে এবং পশ্চিমা জোটের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর একত্রে চাপ বাড়িয়ে, বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইরানের সরকারকে রাজনৈতিক সংস্কারের পথে ধাবিত করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কিনা, তা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।



