বোমন ইরানি আবারও কিশন খুরানা রূপে দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছেন, যখন তিনি দিল্লির একটি শুটিং লোকেশনে ‘খোসলা ক্যা ঘোসলা ২’ এর দৃশ্য শেয়ার করেছেন। ছবিতে তিনি অনুপম খের এবং রণবীর শোরের সঙ্গে একসাথে দেখা গেছেন, যা পুরনো ফিল্মের ত্রয়ীর পুনর্মিলনকে চিহ্নিত করেছে।
কিশন খুরানা চরিত্রটি প্রথম ‘খোসলা ক্যা ঘোসলা’ তে দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল; তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, আত্মবিশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের মতো চালাকী ছিল ছবির অন্যতম স্মরণীয় দিক। বোমন ইরানি এই চরিত্রে ফিরে আসা বহু ভক্তের জন্য একধরনের নস্টালজিক মুহূর্ত, কারণ কিশনের কথাবার্তা এবং হাস্যরসের ছোঁয়া এখনও অনেকের মুখে হাসি ফোটায়।
শুটিংয়ের সময় বোমন একটি ছবি পোস্ট করে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য দিয়ে দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দিলেন যে তিনি এখনো সেই চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত। তিনি হালকা মেজাজে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেউ কি পার্টি নাকি ব্রোকার, যা মূল ছবির স্মরণীয় সংলাপের সুরে রচিত। এই মন্তব্যটি তৎক্ষণাৎ সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর আলোচনা সৃষ্টি করে, যেখানে ভক্তরা পুরনো দৃশ্যের কথা স্মরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
অনুপম খের এবং রণবীর শোরের সঙ্গে পুনর্মিলন শুধুমাত্র একটি শুটিং সেশনের ছবি নয়; এটি ত্রয়ীর মধ্যে পুনরায় সৃষ্ট সাদৃশ্যের ইঙ্গিত দেয়। দু’জনই ‘খোসলা ক্যা ঘোসলা’ তে তাদের নিজস্ব চরিত্রে দর্শকের ভালবাসা অর্জন করেছিলেন, এবং এখন তারা আবার একত্রে কাজ করছেন, যা চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণকে পুনরুজ্জীবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘খোসলা ক্যা ঘোসলা’ ২০০৬ সালে মুক্তি পায় এবং তৎকালীন সময়ে তার বাস্তবধর্মী গল্প, সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং সামাজিক মন্তব্যের জন্য দর্শকের প্রশংসা পায়। চলচ্চিত্রটি ধীরে ধীরে একটি কাল্ট স্ট্যাটাস অর্জন করে, যেখানে কিশন, কামাল এবং বান্টি ত্রয়ীর বন্ধুত্ব এবং নগর জীবনের চিত্রায়ণ আজও স্মরণীয়। এই সিক্যুয়েলটি সেই স্মৃতি পুনরায় জাগ্রত করতে চায়, একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের জন্য আধুনিক রঙ যোগ করে।
সিক্যুয়েলটি মূল ছবির হৃদয়, হাস্যরস এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখবে বলে নির্মাতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। বোমনের কিশন খুরানা পুনরায় অভিনয়, অনুপমের কামাল এবং রণবীরের বান্টি চরিত্রের সমন্বয়, দর্শকদের কাছে পরিচিত এবং প্রিয় উপাদানগুলোকে পুনরায় উপস্থাপন করবে। নতুন গল্পের কাঠামো যদিও এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে মূল থিমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা যায়।
ফ্যানদের প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে উচ্ছ্বাসে ভরপুর। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিটি লক্ষ লক্ষ ভিউ পেয়েছে, এবং মন্তব্যে ভক্তরা পুরনো দৃশ্যের স্মরণে হাসি ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন যে সিক্যুয়েলটি মূল ছবির মতোই বাস্তবধর্মী এবং মজাদার হবে, এবং কিশনের বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্যগুলো আবারও দর্শকের মুখে হাসি ফোটাবে।
শুটিংয়ের স্থান হিসেবে দিল্লি নির্বাচিত হয়েছে, যা মূল ছবির মুম্বাই পটভূমি থেকে ভিন্ন হলেও শহরের ব্যস্ততা এবং রিয়েল এস্টেট সমস্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নির্মাণ দল শহরের বিভিন্ন লোকেশন ব্যবহার করে গল্পের পটভূমি গড়ে তুলছে, যা কিশনের চতুর পরিকল্পনা এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বকে আধুনিক শহুরে পরিবেশে উপস্থাপন করবে।
প্রযোজকরা উল্লেখ করেছেন যে শুটিং প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের পরবর্তী ধাপে রয়েছে। যদিও মুক্তির তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে চলচ্চিত্রটি শীঘ্রই দর্শকের সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়িয়ে তোলা হবে, যাতে পুরনো ভক্ত এবং নতুন দর্শক উভয়ই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী হন।
‘খোসলা ক্যা ঘোসলা ২’ এর প্রত্যাশা শুধু বোমন ইরানির ফিরে আসা নয়, বরং পুরো ত্রয়ীর সমন্বয়কে নতুন রূপে উপস্থাপন করা। এই পুনর্মিলনটি হিন্দি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী হাস্যরস এবং সামাজিক মন্তব্যের মিশ্রণকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলবে, যা আজকের দর্শকের জন্যও প্রাসঙ্গিক।
সামগ্রিকভাবে, বোমন ইরানির কিশন খুরানা চরিত্রে ফিরে আসা, অনুপম খের এবং রণবীর শোরের সঙ্গে পুনর্মিলন, এবং দিল্লিতে শুটিং শুরু হওয়া—all এই উপাদানগুলো ‘খোসলা ক্যা ঘোসলা ২’ কে একটি প্রত্যাশিত সিক্যুয়েল হিসেবে গড়ে তুলছে। চলচ্চিত্রটি নস্টালজিয়া এবং নতুনত্বের সমন্বয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করতে প্রস্তুত, এবং হালকা মেজাজের সঙ্গে সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরবে।



