27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিবাসন অভিযান, ১৫০ বিদেশি নাগরিক আটক

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিবাসন অভিযান, ১৫০ বিদেশি নাগরিক আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন বিভাগ বৃহৎ মাত্রার অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী ১৫০ এর বেশি বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ ছয়টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই নিম্নস্তরের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

অভিযানটি ‘অপারেশন কুটিপ’ নামে পরিচিত এবং দুইটি প্রধান এলাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপটি সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে নেওয়া হয়, যেখানে একসাথে একাধিক বাসিন্দা পালানোর চেষ্টা করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে। কিছু লোক ছাদে উঠে পড়ে, কেউ পানির ট্যাঙ্কের ভিতরে লুকিয়ে থাকে, আবার কেউ তলা থেকে দা ছুঁড়ে মারার মাধ্যমে পলায়ন করার চেষ্টা করে।

সেলায়াং ব্লকে মোট ৩২৬ জনের নথি পর্যালোচনা করা হয় এবং এর মধ্যে ৭৯ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে এবং তারা সিকিউরিটি গার্ড, খাবার দোকানের সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, মুদি দোকানের কর্মচারী ও নির্মাণ শ্রমিকের মতো কাজ করছিলেন।

অভিবাসন বিভাগের অপারেশন উপ-মহাপরিচালক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, সেলায়াং এলাকার বাসিন্দারা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে প্রায় ৬০০ রিঙ্গিত ভাড়ায় পাঁচ থেকে ছয়জন একসাথে থাকতেন, ফলে গন্ধ, ধুলো ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।

এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর, দ্বিতীয় ধাপটি জালান ক্লাং লামা এলাকার একটি অবৈধ বসতিতে চালানো হয়। সেখানে আরও ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, তিনজন মিয়ানমারীয় এবং একজন করে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন।

বসতিটি যদিও কিছু মৌলিক সুবিধা প্রদান করলেও, বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন এবং প্রকৃত মালিকের পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। এলাকায় বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব ছিল; বাসিন্দারা আশেপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ব্যবহার করছিলেন।

অভিযানের পর গ্রেফতারদের উপর আইনগত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের অবস্থান ও কাজের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে। যদি আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদেরকে দেশত্যাগের আদেশ বা শাস্তি দেওয়া হতে পারে।

অভিবাসন বিভাগ উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে অনধিকারিক বসতি ও অবৈধ কর্মসংস্থানের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং একই ধরনের অপারেশন পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া, বৈধ কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের সুযোগ প্রদান করে অবৈধ প্রবেশের প্রলোভন কমাতে সরকারী উদ্যোগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অভিযানটি মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা প্রদর্শন করেছে এবং দেশের শ্রম বাজারে অবৈধ কর্মী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। গ্রেফতারদের পরবর্তী আদালত শুনানি ও শাস্তি সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments