20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাইরফান পাঠান তিলাকের ওপর ভরসা, কোহলির শূন্যতা পূরণে আশা

ইরফান পাঠান তিলাকের ওপর ভরসা, কোহলির শূন্যতা পূরণে আশা

ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের তরুণ ব্যাটসম্যান তিলাক ভার্মা, এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৯ রানের অগ্রগতি দিয়ে দলকে জয়ী করায় ইরফান পাঠান তার ভবিষ্যৎ দায়িত্বে বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। পাঠান এই মন্তব্যগুলো তার ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি তিলাকের চাপ সামলানোর ক্ষমতাকে কোহলির ঐতিহ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিলাকের বর্তমান ফর্ম এবং পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি দলের বড় ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

তিলাক এখন পর্যন্ত ৪০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪৯.২৯ গড় এবং ১৪৪.০৯ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি ধারাবাহিক দুই ম্যাচে শতক তৈরি করে নিজের নামের তালিকায় শীর্ষে যুক্ত করেছেন এবং মোট ছয়টি ফিফটি স্কোরের সাথেও গর্ব করছেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ইতিমধ্যে চাপের মুহূর্তে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় ইনিংস দিয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই পরিসংখ্যানগুলোই পাঠানকে তিলাককে কোহলির শূন্যতা পূরণের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ইরফান পাঠান তার চ্যানেলে উল্লেখ করেন, তিলাক কোহলির মতোই চাপের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং দলকে সঠিক পথে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, তিলাক প্রায়শই তৃতীয় বা চতুর্থ ক্রমে ব্যাট করে, চাপ শোষণ করে এবং বড় স্কোর তৈরি করে। এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার পারফরম্যান্সই এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। পাঠান বিশ্বাস করেন, তিলাকের এই ধরণই কোহলির পূর্বে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ধারাবাহিকতা।

ফাইনালে তিলাকের ৬৯ রানের ইনিংসটি পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যেখানে ভারতীয় ব্যাটিং ইউনিটকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনে। পাকিস্তানের শক্তিশালী বলদলকে মোকাবিলা করে তিনি ধারাবাহিকভাবে রানের প্রবাহ বজায় রাখেন এবং দলের স্কোরে স্থিতিশীলতা আনে। এই পারফরম্যান্স পাঠানের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে, যে তিলাক ভবিষ্যতে বড় ম্যাচে চাপ সামলাতে সক্ষম। তিলাকের এই ইনিংসটি কোহলির পূর্বের দায়িত্বের সঙ্গে তুলনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরফান পাঠান কোহলির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের পারফরম্যান্সের কথাও স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোহলি সবসময়ই চাপের মুহূর্তে মানিয়ে নিতে পারতেন, যদিও পুরো টুর্নামেন্টে তার গড় তেমন উজ্জ্বল ছিল না। তবু ফাইনালে কোহলির ইনিংসটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও তা বিস্ফোরক না হলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ছিল। পাঠান এই উদাহরণ দিয়ে তিলাকের ভূমিকা কীভাবে কোহলির ঐতিহ্যকে ধারাবাহিক রাখতে পারে তা তুলে ধরেন।

এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের পাওয়ারপ্লে সময় তিনটি উইকেট হারিয়েও তিলাক তার পরিকল্পনা বজায় রাখেন। তিনি হিসেবি ঝুঁকি নিয়ে শট খেলেন, যা দলকে স্থিতিশীল রাখে এবং আক্রমণাত্মক রনের সুযোগ দেয়। সানজু স্যামসন ও শিবাম দুবে একইভাবে বড় শটের মাধ্যমে চাপকে কমিয়ে দেন, ফলে ভারত শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয়। পাঠান বলেন, তিলাকের এই শৈলী কোহলির মতোই চাপের সময়ে দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়।

তিলাকের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলে তিনি আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম মূল খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক চোটের কারণে তিনি বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন এবং সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। এই চোটটি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শুরুতে তাকে বাদ রাখবে, যা তার প্রস্তুতিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করবে। তবু পাঠান আশাবাদী যে তিলাক দ্রুত সুস্থ হয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হবে।

ইরফান পাঠানের মন্তব্যগুলো তিলাকের ভবিষ্যৎ দায়িত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যেখানে তিনি কোহলির শূন্যতা পূরণে তিলাকের সম্ভাবনা দেখছেন। তিলাকের বর্তমান ফর্ম, পরিসংখ্যান এবং চাপের মুহূর্তে প্রদর্শিত আত্মবিশ্বাসই তাকে দলের বড় ভরসা করে তুলেছে। পাঠান বিশ্বাস করেন, তিলাকের ধারাবাহিকতা এবং পরিকল্পনামূলক খেলা ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান হবে।

তিলাকের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে নিউ জিল্যান্ডের সিরিজে ফিরে আসা এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা। তার শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং ফিটনেসের অবস্থা দলের কৌশলগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোচিং স্টাফ এবং সহকর্মীরা তিলাকের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তিনি দলের শীর্ষ ব্যাটিং লাইনআপে পুনরায় স্থান পেতে পারেন। তিলাকের সুস্থতা এবং ফর্মের ধারাবাহিকতা ভারতীয় টিমের টি-টোয়েন্টি ক্যাম্পেইনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।

সারসংক্ষেপে, ইরফান পাঠান তিলাককে কোহলির শূন্যতা পূরণের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। তিলাকের ৪০ ম্যাচে গড় ৪৯.২৯ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৪.০৯, পাশাপাশি দুইটি শতক এবং ছয়টি পঞ্চক তার ব্যাটিং দক্ষতা প্রমাণ করে। এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬৯ রানের ইনিংসটি তার মানসিক দৃঢ়তা এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে তুলে ধরে। যদিও চোটের কারণে তিনি সাময়িকভাবে মাঠ থেকে দূরে, তার দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের জন্য আশার আলো জ্বালাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments