গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ভোট পরিচালনার জন্য ইলেকশন কমিশন আগামী শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ১৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর প্রশিক্ষণ দেবে। প্রশিক্ষণটি পোস্টাল ভোটের প্রতিটি ধাপকে বাস্তবভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখবে।
প্রশিক্ষণের সূচনা সম্পর্কে ইলেকশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৩ জানুয়ারি জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য এই প্রশিক্ষণটি অপরিহার্য।
প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা তথ্য অফিসার এবং সমপর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের পরিচালনা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে নিশ্চিত করা হবে।
সেশনটিতে পোস্টাল ভোটের পুরো প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষ করে ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের খামের যাচাই, নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যানিং এবং তথ্য সংরক্ষণ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরম‑১২ প্রস্তুত করা এবং নিরাপদে প্রিজাইডিং অফিসারকে হস্তান্তরের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।
প্রথম ধাপ হিসেবে ভোটের খামের শারীরিক যাচাইয়ের উপর জোর দেওয়া হবে। ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিটি খামের সঠিকতা নিশ্চিত করতে বিশেষ চেকলিস্ট ব্যবহার করা হবে এবং কোনো ত্রুটি থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হবে।
এরপর কিউআর কোড স্ক্যানিং প্রক্রিয়া চালু হবে। নির্ধারিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রতিটি ভোটের খাম থেকে কিউআর কোড দ্রুত স্ক্যান করা হবে, ফলে ভোটের তথ্য ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ হবে এবং ম্যানুয়াল ত্রুটির সম্ভাবনা কমে যাবে।
সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরম‑১২ তৈরি হবে, যা ভোটের বৈধতা ও গোপনীয়তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ফরমটি ভোটের ফলাফল সংকলনের সময় মূল নথি হিসেবে কাজ করবে।
প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোটের খাম হস্তান্তরের পদ্ধতিও নিরাপদে সম্পন্ন হবে। হস্তান্তরের সময় সিকিউরিটি প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে এবং সব নথি যথাযথভাবে লকড বক্সে সংরক্ষিত হবে, যাতে কোনো অননুমোদিত প্রবেশাধিকার না পায়।
ইলেকশন কমিশনের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, পোস্টাল ভোটের স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং সময়মতো সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পোস্টাল ভোটের প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত দিকগুলোতে পারদর্শী হয়ে উঠবেন।
নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পেপার বিতরণ করা হয়েছে এবং তারা ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোট প্রদান করে তা ফেরত পাঠাবে।
ভোটের ফলাফল গণনা ভোটের দিনই করা হবে, যা দ্রুত ফলাফল প্রকাশের সুযোগ দেবে। পোস্টাল ভোটের এই ব্যবস্থা সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করার পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করবে।
প্রতিপক্ষ দলগুলোও প্রশিক্ষণকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং পোস্টাল ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এই প্রশিক্ষণ শেষ হলে পোস্টাল ভোটের কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।



