27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধথাইল্যান্ডে ক্রেন ধসে ট্রেন থেকে পড়ে ২২ জনের মৃত্যু, ৩০েরও বেশি আহত

থাইল্যান্ডে ক্রেন ধসে ট্রেন থেকে পড়ে ২২ জনের মৃত্যু, ৩০েরও বেশি আহত

নাখন রাচাসিমা প্রদেশে বুধবার সকাল প্রায় ৯টায় একটি নির্মাণ ক্রেন হঠাৎ নেমে একটি যাত্রী ট্রেনের ওপর আঘাত হানে, ফলে ট্রেনটি ডেরেইল হয়ে আগুনে জ্বলে ওঠে এবং অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়, আর ৩০েরও বেশি মানুষ আহত হয়। ঘটনাস্থলটি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে অবস্থিত, যেখানে উচ্চগতির রেলপথের নির্মাণ কাজ চলছে।

এই ক্রেনটি চীনের আর্থিক সহায়তায় গড়ে তোলার পরিকল্পনায় থাকা ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। নির্মাণ কাজের সময় ক্রেনটি স্থিতিশীলতা হারিয়ে ট্রেনের ওপর পড়ে, ফলে রেলপথ থেকে ট্রেনটি বিচ্যুত হয়ে দেহে দেহে ধসে পড়ে।

নাখন রাচাসিমা প্রাদেশিক জনসংযোগ বিভাগ একটি বিবৃতিতে জানায়, ক্রেনের ধসে পড়া ট্রেনকে ডেরেইল করিয়ে দেয় এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া ও অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে। বিভাগটি উল্লেখ করে, দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে ট্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবন রাচাথানি প্রদেশের পথে চলছিল।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধসে পড়া রঙিন ট্রেনের পাশে কাজ শুরু করে। ট্রেনটি পাশের দিকে উল্টে দাঁড়িয়ে ছিল, ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘন ধোঁয়া বেরিয়ে আসছিল, যা আশেপাশের পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তুলেছিল।

পরিবহন মন্ত্রী ফিপহাট রাচাকিটপ্রাকর্ণ জানান, ওই ট্রেনে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, মৃতদের পরিচয় জানার কাজ এখনো চলমান এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। মন্ত্রীর মতে, আহতদের মধ্যে গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক কর্মীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অন্তর্ভুক্ত।

মৃতদেহের পরিচয় নির্ধারণের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতালগুলো একত্রে কাজ করছে। মৃতদের পরিবারকে জানানো হবে, এবং শোক প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, আহতদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তাদের শারীরিক ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

এই রেল প্রকল্পটি চীনের “বেল্ট অ্যান্ড রোড” উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত, যার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে ব্যাংকককে চীনের কুনমিং শহরের সঙ্গে লাওসের মাধ্যমে সংযুক্ত করা। প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলার, এবং এটি থাইল্যান্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ সাইটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলা দরকার। থাইল্যান্ডে শিল্প ও নির্মাণ সাইটে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যেখানে নিরাপত্তা নিয়মের কঠোর প্রয়োগের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

নাখন রাচাসিমা জেলার পুলিশ প্রধান থাচাপন চিন্নাওয়ং ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং জানান, ২২ জনের মৃত্যু এবং ৩০েরও বেশি জনের আঘাতের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্তের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীলকে আইনি দায়িত্বের মুখোমুখি করা হবে।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে একাধিক সংস্থা একত্রে কাজ করবে। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কারণগুলো বিশ্লেষণ করে, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, নির্মাণ কাজের সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

অবশেষে, থাইল্যান্ডের সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দুঃখজনক ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, আহতদের ত্বরিত চিকিৎসা ও মৃতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, উচ্চগতির রেল প্রকল্পের নিরাপত্তা মান উন্নয়নের জন্য তদারকি বাড়িয়ে, ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি না ঘটার নিশ্চয়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments