বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ট্রফি, ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত প্রথম ট্রফি ব্যবহৃত হয়, যার নাম ছিল জুলে রিমে ট্রফি। তিনবার শিরোপা জয়ী দেশকে চিরতরে ট্রফি নিজের করে নেওয়ার নিয়ম অনুসরণে ১৯৭০ সালে ব্রাজিল এই পুরস্কারটি নিয়ে যায়।
১৯৭৪ সাল থেকে বর্তমানের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ব্যবহার করা হয়। নতুন নকশা, নতুন যুগের চিহ্ন হিসেবে এই ট্রফি প্রতিটি চ্যাম্পিয়নকে সমর্থন করে। ট্রফির পরিবর্তন ফুটবলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়।
জুলে রিমে, ফিফার তৃতীয় সভাপতি, ১৯২১ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত ৩৩ বছর ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফিফার ইতিহাসে সর্বাধিক সময়ের জন্য সেবা করেছেন। ১৮৭৩ সালে জন্মগ্রহণকারী রিমে ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন, দায়িত্ব ত্যাগের দুই বছর পর।
রিমে ১৯২৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করেন। পরের বছর ভোটের মাধ্যমে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে নতুন এক যুগের সূচনা হয়।
প্রথম ট্রফির নকশা ফরাসি ভাস্কর অ্যাবেল লাফ্ল্যুরের দায়িত্বে ছিল। লাফ্ল্যুর গ্রিক বিজয়দেবী নাইকির সোনালি মূর্তি তৈরি করেন, যার মাথার ওপর অষ্টভুজাকার কাপ এবং গলায় বিজয়ের মালা রয়েছে। তার অনুপ্রেরণা হেলেনিস্টিক যুগের বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘নাইক অব সামোথ্রেস’ থেকে নেওয়া হয়, যা আজ লুভরে সংরক্ষিত।
এই ট্রফির উচ্চতা ৩৫ সেন্টিমিটার, ওজন ৩.৮ কেজি। মূল উপাদান ছিল সোনালি প্রলেপযুক্ত স্টার্লিং সিলভার, যার নিচে নীল রঙের ল্যাপিস লাজুলি পাথরের বেস স্থাপন করা হয়েছে। বেসের চারপাশে সোনার পাত বসিয়ে প্রতিবারের চ্যাম্পিয়ন দেশের নাম খোদাই করা হতো।
প্রারম্ভিক সময়ে ট্রফিটিকে ‘ভিক্টরি’ বলা হতো, তবে সাধারণ কথায় এটি ‘কাপ দ্যু মঁদ’ বা বিশ্বকাপ নামে পরিচিত হয়। ১৯৪৬ সালে ফিফার সভাপতি হিসেবে জুলে রিমে এই ট্রফির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। তার নেতৃত্বে ট্রফি আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রতীক হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান পায়।
ব্রাজিলের তৃতীয় শিরোপা জয় ১৯৭০ সালে ট্রফিটিকে চিরতরে নিজের করে নেয়ার শর্ত পূরণ করে। ফলে জুলে রিমে ট্রফি ফিফা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং এখনো সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত। এই ঘটনা ট্রফির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ১৯৭৪ সালে প্রথমবার উপস্থাপিত হয়। এর নকশা ও উপাদান সম্পর্কে মূল সংবাদে বিশদ উল্লেখ না থাকলেও, এটি পূর্বের ট্রফির তুলনায় আধুনিক ও স্থায়িত্বপূর্ণ হিসেবে গৃহীত হয়। প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন দল এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে গর্বের অনুভূতি পায়।
ফিফা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তে খেলোয়াড়, কোচ এবং সমর্থকদের আবেগ একসাথে মিশে যায়। বিজয়ের আনন্দ, দেশের গর্ব এবং ব্যক্তিগত সাফল্য একত্রে এই ট্রফিতে প্রকাশ পায়। ইতিহাসের পাতায় এই মুহূর্তগুলো চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।
ট্রফির নকশা, ওজন, উচ্চতা এবং উপাদান সম্পর্কে তথ্যগুলো ফুটবলের ভক্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বিবরণগুলো ট্রফির মূল্য ও মর্যাদা নির্ধারণে সহায়তা করে। প্রতিটি বিবরণই ট্রফির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
বিশ্বকাপ ট্রফি শুধুমাত্র একটি জয়ের স্মারক নয়; এটি ফুটবলের বিকাশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানবিক স্পোর্টসের প্রতীক। প্রতিটি চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে ট্রফি নতুন গল্প যোগ করে। এই গল্পগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।
ফিফা ট্রফি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঘটিত রোমাঞ্চকর ঘটনা, চোরের কবল থেকে সুরক্ষিত সংরক্ষণ পর্যন্ত, ফুটবলের ইতিহাসে রঙিন অধ্যায় যোগ করেছে। যদিও কিছু ঘটনা সংবাদে বিস্তারিত না হলেও, ট্রফির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়।
আজকের দিনে বিশ্বকাপ ট্রফি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিটি টুর্নামেন্টে এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্য দলগুলো কঠোর প্রস্তুতি নেয়। ট্রফির ইতিহাস ও ঐতিহ্য খেলোয়াড়দের মনোভাবকে প্রভাবিত করে।
বিশ্বকাপের পরবর্তী টুর্নামেন্টের সূচি ও প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নির্ধারিত। নতুন দলগুলো এই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের স্বপ্নে মগ্ন। প্রতিটি ম্যাচে উত্তেজনা, কৌশল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলের উজ্জ্বল রঙে রঙিন হয়।
ফিফা ট্রফি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে ফুটবলের ভক্তরা এই প্রতীকী পুরস্কারের গভীরতা ও তাৎপর্য বুঝতে পারে। ইতিহাসের প্রতিটি ধাপ, নকশার বিবরণ এবং বিজয়ের মুহূর্ত একত্রে একটি সমৃদ্ধ বর্ণনা গঠন করে। এই বর্ণনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান রেফারেন্স হবে।



