ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন‑৫ শাখা সোমবার (১২ জানুয়ারি) একটি আদেশ জারি করে নতুন নীতিমালা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। উপ‑সচিব মো. শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে এই আদেশে সব ধরণের ভিসা, বিশেষত আগমনী ভিসা, তৎক্ষণাৎ প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালা ও পরবর্তীতে জারি করা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যভিত্তিক ভিসা প্রদান করতে হবে। ভিসা জারি করার আগে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় নথিপত্রের যথাযথ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে অনধিকৃত প্রবেশ রোধ করা যায়।
বিনা ভিসা (অন‑অ্যারাইভাল) ভিত্তিক প্রবেশের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর প্রবেশের উদ্দেশ্য, আমন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, বাসস্থানের ঠিকানা, এবং ফিরতি টিকিটসহ সব নথি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। কোনো অসঙ্গতি বা সন্দেহ দেখা দিলে ভিসা প্রদান না করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।
বিদেশি সামরিক বাহিনী বা নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী সময়কালে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে নির্বাচনের পর্যবেক্ষণকারী বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। নির্ধারিত নির্বাচনী সময়কালে তাদেরকে “নির্বাচন পর্যবেক্ষণ” লেবেলযুক্ত সিলযুক্ত আগমনী ভিসা প্রদান করা হবে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পেলে পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফের সুযোগও থাকবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের আগমন‑প্রস্থান ও ভিসা প্রক্রিয়ার তদারকি বাড়াতে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। এই সমন্বয় ব্যবস্থা ভিসা যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং সম্ভাব্য অনিয়ম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বহিরাগত বাংলাদেশ মিশন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একত্রে কাজ করে নির্বাচনের সময়কালে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ন্ত্রণে একসাথে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই নতুন ভিসা নির্দেশনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে সরকার আশাবাদী। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঠিকভাবে নিবন্ধন ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, একইসাথে অনধিকৃত প্রবেশের ঝুঁকি কমবে।
প্রয়োগের পর থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও মিশনগুলোকে ত্বরিতভাবে নতুন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে ভিসা সংক্রান্ত কোনো ধীরগতি না ঘটে। সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা দুটোই বজায় রাখতে চায়।



