মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ জানুয়ারি তেহরানের সঙ্গে নির্ধারিত সকল বৈঠক রদ করার পাশাপাশি ইরানের চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদকে তীব্র সমর্থন জানিয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন। তিনি ইরানীয় নাগরিকদের সরকারী প্রতিষ্ঠান দখল করে চলতে উৎসাহিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা শীঘ্রই পৌঁছাবে।
ট্রাম্পের নিজের সামাজিক নেটওয়ার্ক “ট্রুথ সোশ্যাল”‑এ প্রকাশিত বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের সরকারি দফতর ও সংস্থাগুলো দখল করার আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন‑পীড়নে জড়িত কর্মকর্তাদের নামের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রেসিডেন্টের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি দেশপ্রেমিকরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দখলকৃত প্রতিষ্ঠানে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না যতক্ষণ না ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর গৃহীত নির্মম হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে। এই অবস্থানকে শক্তিশালী করতে তিনি “MIGA” ও “MAGA” স্লোগান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা শীঘ্রই কার্যকর হবে বলে আশ্বাস দেন।
সাহায্যের প্রকৃতি সম্পর্কে ট্রাম্প বিশদে কিছু বলেননি; তবে তিনি ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “খুব কঠোর ব্যবস্থা” গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করেন। এই মন্তব্যটি সিবিএসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পুনরায় উল্লেখ করা হয়। তিনি কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা কৌশলগত সহায়তার নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।
বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে দেখছেন। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থায় হঠাৎ শূন্যতা সৃষ্টি করেন, তবে দেশটি লিবিয়া, সিরিয়া বা ইরাকের মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ইরানে এমন কোনো সংগঠিত বিরোধী গোষ্ঠী নেই যা দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণ করতে সক্ষম।
ইরানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যাপক বাধা তথ্যের প্রবাহকে কঠিন করে তুলেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ফলে কয়েকশো বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ভিন্ন সংখ্যা উপস্থাপন করে, যা ঘটনার প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান সম্পর্কের নতুন মোড় আসতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে চাপ বাড়বে এবং বিদ্যমান বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন গতিশীলতা উদ্ভূত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপের নৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নও তীব্র হবে।
ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ট্রাম্পের ঘোষণাপত্র ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে অস্থির করে তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করেছে। বিক্ষোভের তীব্রতা, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া একসঙ্গে ইরানের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।



