20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
HomeরাজনীতিICE-এ আটক হওয়া অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৬-এ বৃদ্ধি পেয়েছে

ICE-এ আটক হওয়া অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৬-এ বৃদ্ধি পেয়েছে

মিনিয়াপোলিসে ৭ জানুয়ারি রেনি নিকোল গুডের গুলিবর্ষণ পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও সীমানা সুরক্ষা (ICE) এর মুখোমুখি কৌশলগুলো ব্যাপক নজরে এসেছে। একই সময়ে, ICE-এ আটক থাকা অভিবাসীদের মৃত্যুর হারও বাড়ছে বলে নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম দশকে চারজন অভিবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত বছরের রেকর্ডের পর ধারাবাহিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ICE কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের শুরুর দশ দিনে তিনজনের মৃত্যু জানুয়ারি ৯-১০ তারিখে প্রকাশিত হয়। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সংস্থাটি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং মৃত্যুর কারণগুলো নির্ধারণে কাজ করছে।

মৃত্যুর শিকার চারজনই পুরুষ, বয়স ৪২ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে দুইজন হন্ডুরাসের নাগরিক, একজন কিউবান এবং আরেকজন ক্যাম্বোডিয়ার নাগরিক ছিলেন। সকলেরই অভিবাসন সংক্রান্ত মামলায় আটক থাকা অবস্থায় এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

দুইজনের মৃত্যুর কারণ হৃদয়জনিত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে। বাকি দুইজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে একটি ক্ষেত্রে তদন্ত চলমান রয়েছে। এই তথ্যগুলো ICE-এ রোগী সেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গত বছর ২০২৫-এ অভিবাসী আটকগুলিতে মৃত্যুর সংখ্যা দুই দশকের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। সেই বছর মোট ৩০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যা ২০০৪ সাল থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০০৪ সাল ছিল ICE প্রতিষ্ঠার পরের প্রথম বছর, তখন থেকে এই রেকর্ড ভাঙা হয়নি।

২০২৫ সালের মৃত্যুর সংখ্যা ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বায়ডেন প্রশাসনের পুরো সময়কালের মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি। অর্থাৎ, ট্রাম্পের শেষ বছরের তুলনায় বায়ডেনের মেয়াদে মোট মৃত্যুর সংখ্যা কম ছিল। এই তুলনা ICE-এ রোগী সেবা ব্যবস্থার ধারাবাহিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (AILA) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চার বছরের মধ্যে ICE-এ মোট ২৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। এই সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রোগী সেবার মানের অবনতি নির্দেশ করে।

বহিরাগত পর্যবেক্ষকগণও এই সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা দাবি করেন যে আটক অভিবাসীদের চিকিৎসা সেবা যথাযথ নয় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে হৃদয়জনিত সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

২০২৪ সালে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে ICE-এ ঘটিত মৃত্যুর ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান করলে রোধ করা সম্ভব ছিল। এই প্রতিবেদনটি ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত মৃত্যুর কেস বিশ্লেষণ করে এই উপসংহারে পৌঁছেছে।

ACLU-এর বিশ্লেষণে দেখা যায় যে রোগীর অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করা, জরুরি চিকিৎসা সরবরাহে দেরি এবং পর্যাপ্ত মেডিকেল স্টাফের অভাবই প্রধান কারণ। এই ফলাফলগুলো ICE-কে রোগী সেবা উন্নত করার জন্য ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।

ICE পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, সব মৃত্যুর ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংস্থাটি রোগী সেবার মান উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ নীতি পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ধারাবাহিক মৃত্যুর সংখ্যা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং বর্তমান প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে তীব্র বিরোধের সূচক হতে পারে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে এবং আইনি সংস্কারের দাবি তীব্র হতে পারে।

অভিবাসী অধিকার সংস্থাগুলোও ICE-এ রোগী সেবা ও মৃত্যুর তদন্তের স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা দাবি করছে যে, আটক অভিবাসীদের মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা উচিত এবং কোনো ধরনের অবহেলা ন্যায়সঙ্গত নয়।

সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালের প্রথম দশকে ICE-এ চারজনের মৃত্যু, ২০২৫ সালের রেকর্ড উচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা এবং চিকিৎসা সেবার ঘাটতি নিয়ে চলমান উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে তীব্র বিতর্কের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments