লস এঞ্জেলেসের স্যাগ‑আফট্রা ফাউন্ডেশনের গৃহে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাওয়ার্ডস চ্যাটার’ পডকাস্টে অস্ট্রেলিয়ার বহুমুখী শিল্পী জোয়েল এডগার্টন অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। এই অনুষ্ঠানটি হলিউড রিপোর্টারের সিরিজের অংশ এবং সরাসরি দর্শকদের সামনে রেকর্ড করা হয়। এডগার্টন তার অভিনয়, রচনা, নির্মাণ ও পরিচালনার কাজ নিয়ে আলোচনা করেন।
অভিনয় জগতে এডগার্টনের পরিচয় প্রায় দুই দশক আগে গড়ে ওঠে, যখন তিনি জর্জ লুকাসের নির্বাচনে ‘স্টার ওয়ার্স: এপিসোড II – অ্যাট্যাক অব দ্য ক্লোনস’ (২০০২) এবং ‘স্টার ওয়ার্স: এপিসোড III – রেভেঞ্জ অব দ্য সিথ’ (২০০৫) ছবিতে ওয়েন লার্সের চাচা চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের নজরে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে ডিজনি+ সিরিজ ‘ওবি‑ওয়ান কেনোবি’ তে পুনরায় দেখা যায়।
স্টার ওয়ার্সের পর এডগার্টন অস্ট্রেলিয়ার বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে গঠন করা ‘ব্লু‑টাং ফিল্মস’ গোষ্ঠীর প্রকল্পে অংশ নেন। ২০১০ সালের ‘অ্যানিমাল কিংডম’ ছবিতে তার পারফরম্যান্স সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে, যা তাকে আরও বড় স্ক্রিনে সুযোগের দরজা খুলে দেয়।
এরপর তিনি গ্যাভিন ও’কনররের ‘ওয়ারিয়র’ (২০১১), ক্যাথরিন বিগেলোর ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ (২০১২), বেজ লুহরম্যানের ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’ (২০১৩) এবং স্কট কুপারের ‘ব্ল্যাক মাস’ (২০১৫) ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রতিটি প্রকল্পে তার স্বতন্ত্র শৈলী ও তীক্ষ্ণ অভিনয়শক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০১৬ সালে জেফ নিকলসের ‘মিডনাইট স্পেশাল’ এবং ‘লাভিং’ ছবিতে এডগার্টন দু’টি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘লাভিং’ ছবিতে তার পারফরম্যান্স গোল্ডেন গ্লোব এবং ক্রিটিক্স চয়েস পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দেয়, যা তার ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর তিনি ব্যারি জেনকিন্সের ‘দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড’ (২০২১) সীমিত সিরিজে, রন হাওয়ার্ডের ‘থার্টিন লাইভস’ (২০২২) এবং জর্জ ক্লুনিজের ‘দ্য বয়স ইন দ্য বোট’ (২০২৩) ছবিতে কাজ করেন। এই ধারাবাহিক সহযোগিতা তার বহুমুখিতা এবং শিল্পী হিসেবে তার স্থায়ী প্রভাবকে তুলে ধরে।
এডগার্টন নিজেও লেখক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন; ২০১৫ সালের ‘দ্য গিফট’ এবং ২০১৮ সালের ‘বয় ইরেজড’ ছবিগুলোতে তিনি স্ক্রিপ্ট লিখে নিজে অভিনয় করেছেন। উভয় চলচ্চিত্রই তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও গল্প বলার ক্ষমতা প্রকাশ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে এডগার্টন ক্লিন্ট বেন্টলির পরিচালিত ‘ট্রেন ড্রিমস’ ছবিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এই চলচ্চিত্রটি ডেনিস জনসনের ২০১১ সালের একই নামের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে রবার্ট গ্রেইনিয়ার নামের এক আমেরিকান শ্রমিকের জীবনের গৌরব ও দুঃখের গল্প বলা হয়েছে।
‘ট্রেন ড্রিমস’ উপন্যাসটি ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে জন্ম নেওয়া গ্রেইনিয়ারকে অনুসরণ করে, যিনি ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত জীবনের নানা পর্যায়ে কাজ করেন, প্রেমের স্বাদ নেন এবং ক্ষতি অনুভব করেন। এডগার্টনের অভিনয় এই চরিত্রের নীরব সংগ্রাম ও মানবিক দিককে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছে।
পডকাস্টে এডগার্টন উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পে কাজ করা তাকে অতীতের বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে অভিনয় করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া, চরিত্রের মানসিক গভীরতা এবং পরিচালক বেন্টলির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
‘অ্যাওয়ার্ডস চ্যাটার’ শোটি শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য পরিচিত, এবং এডগার্টনের উপস্থিতি শোকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ, স্টার ওয়ার্সের স্মরণীয় ভূমিকা থেকে শুরু করে স্বাধীন চলচ্চিত্রে অর্জিত স্বীকৃতি পর্যন্ত, সবই তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।
আজকের দিনে জোয়েল এডগার্টন তার অভিনয়, রচনা ও পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। ‘ট্রেন ড্রিমস’ ছবিতে তার সাম্প্রতিক সাফল্য তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, এবং ভবিষ্যতে তিনি কী ধরনের প্রকল্পে হাত দেবেন তা শিল্পপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ অপেক্ষা।



