প্রাক্তন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য এবং বামপন্থী ছাত্রনেতা দল একত্রিত হয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলছে; এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী শুক্রবার বিকাল তিনটায় শহীদ মিনারে নির্ধারিত। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ, ছাত্র ও সমাজসেবী গোষ্ঠীকে এক ছাতার নিচে আনা, যাতে তারা যৌথভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
প্ল্যাটফর্মের গঠন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সামাজিক পটভূমির ব্যক্তিরা যুক্ত হচ্ছেন, যা তার বহুমুখী স্বভাবকে তুলে ধরছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ ও ছাত্রনেতা, পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যের মানুষ এই কাঠামোতে অংশ নিচ্ছেন।
প্রধান সদস্যদের মধ্যে রয়েছে অনিক রায়, তুহিন খান এবং অলিক মৃ, যারা সকলেই এনসিপি ত্যাগের পর এই নতুন উদ্যোগে যোগ দিয়েছেন। অনিক রায় পূর্বে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তুহিন খান এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন, আর অলিক মৃ আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের প্রাক্তন নেতা এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ছিলেন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, গবেষক ও লেখক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা সভাপতি মেঘমল্লা বসু এবং সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা সংগঠনের বহুমুখী কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
তুহিন খান বলেন, “আসলে এটা একটা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, এটা পরে দল হবে কি হবে না, সেটা আমরা এখনো বলতে পারছি না। প্ল্যাটফর্মের যাত্রা এবং এর কাজের ধরণই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নামও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সংগঠনটি এখনো তার পরিচয় ও কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, “মূলত এনসিপি থেকে যারা আসছেন, তারা আছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, বামধারার থেকে যারা অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এবং কিছু পুরাতন বামপন্থী রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল লোকজন এখানে রয়েছে। সিভিল সোসাইটি ও অ্যাক্টিভিস্ট গোষ্ঠীর লোকজনও অংশ নিচ্ছেন, এটাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল গঠন।” এই বিবরণে দেখা যায় যে, প্ল্যাটফর্মের সদস্যবৃন্দের মধ্যে অভ্যুত্থানকালীন সক্রিয়তা ও বামপন্থী ঐতিহ্য উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
শহীদ মিনারে নির্ধারিত ঘোষণার সময়ে প্ল্যাটফর্মের কাঠামো, লক্ষ্য ও সম্ভাব্য নাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। যদিও এখনো নাম চূড়ান্ত হয়নি, তবে সংগঠনটি ভবিষ্যতে দল গঠন বা বিদ্যমান রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সদস্যদের ভূমিকা, সংগঠনের শাসনব্যবস্থা ও কার্যক্রমের রূপরেখা স্পষ্ট হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারে, বিশেষ করে বাম ও কেন্দ্রপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে। যদি প্ল্যাটফর্মটি কার্যকরভাবে সংগঠিত হয়, তবে এটি বিদ্যমান বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন বিকল্প প্রদান করতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম ও জনমত গঠনে তাদের সক্ষমতার ওপর।
পরবর্তী ধাপে, প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তুলবে। সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রস্তাবনা ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন প্ল্যাটফর্মটি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



