কোগি রাজ্যের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনী শনিবার থেকে শুরু করা এক বৃহৎ সমন্বিত অভিযানে ২০০ের বেশি সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যকে গুলিবিদ্ধ করেছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযান বহু সংস্থা একসঙ্গে চালু করেছে এবং এতে কিছু সন্দেহভাজনও গ্রেফতার হয়েছে, তবে গ্রেফতার সংখ্যার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
হেলিকপ্টার থেকে তোলা ভিডিওতে ঘন জঙ্গলে অবস্থিত এক গ্রামকে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে দেখা যায়। ছবিগুলো কোগি পুলিশ থেকে প্রাপ্ত, যা অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
বহু বছর ধরে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত গ্যাংগুলো হত্যা, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি করে র্যানসম সংগ্রহে লিপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গোষ্ঠীগুলো দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার মধ্যে কোগি রাজ্যও অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ করে স্কুলে সমন্বিত অপহরণ ঘটার পর দেশব্যাপী নিন্দা বাড়ে এবং সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তীব্র করার নির্দেশ দেয়। গত মাসে নাইজার রাজ্যের একটি বোরডিং স্কুলে নভেম্বর মাসে অপহৃত শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া যায়, যা কোগি রাজ্যের সীমান্তের নিকটবর্তী।
সপ্তাহান্তে সমন্বিত অভিযান চলাকালে গ্যাংয়ের বেশ কয়েকটি শিবির ধ্বংস করা হয়। কোগি রাজ্যের তথ্য কমিশনার কিংসলি ফ্যানও উল্লেখ করেন, এই শিবিরগুলোতে গ্যাংয়ের অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং সরবরাহের বড় ভাণ্ডার ছিল।
অভিযানের সময় গ্যাং সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় কিছু বন্দি ব্যক্তিকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এই কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য গ্যাংকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফ্যানও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী গ্যাংকে পুনরায় একত্রিত হতে বাধা দিতে তাদের চলাচলকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। তবে গ্যাংয়ের মানব ঢাল ব্যবহার করার কৌশল নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
কোগি রাজ্যকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে ঘন জঙ্গল পথের মাধ্যমে গ্যাংগুলো সহজে চলাচল করতে পারে, যা তাদেরকে বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে অপরাধ চালাতে সক্ষম করে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, কোগির ভৌগোলিক অবস্থান গ্যাংদের জন্য কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে এবং এ ধরনের অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
অভিযানের পরবর্তী ধাপে, কোগি সরকার সংশ্লিষ্ট সকল ঘটনার তদন্তের জন্য বিশেষ দায়িত্বশীল দল গঠন করেছে। গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং অপহৃত ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য গৃহীত পদক্ষেপের পর্যালোচনা করা হবে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে গ্যাংয়ের অবশিষ্ট অংশকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে অতিরিক্ত সামরিক ও পুলিশি অপারেশন চালু করা হবে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে।
অভিযান চলাকালে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিবিরের অবশিষ্টাংশ এবং মৃতদেহের সংখ্যা সংক্রান্ত বিশদ তথ্য সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে। এই তথ্যগুলো পরবর্তী আদালতিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, কোগি রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে, তবে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্যাংয়ের কার্যক্রমকে দমন করতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যস্থির করেছে।



