20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনসাউন্ড মিক্সার থমাস কজি, ৭৬ বছর বয়সে ক্যাথেড্রাল সিটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ

সাউন্ড মিক্সার থমাস কজি, ৭৬ বছর বয়সে ক্যাথেড্রাল সিটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ

সাউন্ড মিক্সার থমাস কজি ৭৬ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাথেড্রাল সিটিতে দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পর মারা গেছেন। তার মৃত্যু পরিবার জানিয়েছে এবং শিল্প জগতে একটি বিশাল শূন্যতা রেখে গেছে। কজি ১৯৪৯ সালের ৫ ডিসেম্বর নিউ অরলিন্সে জন্মগ্রহণ করেন এবং শ্রীভেপোর্ট, লুইজিয়ানায় বড় হন।

শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৬৭ সালে সি.ই. বায়ার্ড হাই স্কুল শেষ করেন এবং ইউনিভার্সিটি অফ নিউ অরলিন্সে চলচ্চিত্র বিষয়ের কোর্সে ভর্তি হন। ফরাসি নিউ ওয়েভের প্রতি আকর্ষণ তাকে প্যারিসে একটি বিশেষ কোর্সে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে, যেখানে তিনি ক্লদ শাব্রল, আন্নেস ভার্দা ও ফ্রাঁসোয়া ত্রুফোয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই অভিজ্ঞতা তার সাউন্ড ডিজাইনের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্যারিয়ারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কজি হলিউডের ছোট প্রকল্পে কাজ শুরু করেন, কিন্তু শীঘ্রই তিনি বড় নামের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি জন কার্পেন্টারের একাদশ ছবিতে সাউন্ড মিক্সার হিসেবে কাজ করে তার নাম তুলে ধরেন এবং আটটি আদাম স্যান্ডলার চলচ্চিত্রে একই ভূমিকা পালন করেন। এই দুই দিগন্তে তার কাজের গুণমান এবং বহুমুখিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১৯৮০-এর দশকে কজি ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ‘গার্ডেনস অফ স্টোন’ (১৯৮৭) এবং জেমস এল. ব্রুকসের ‘ব্রডকাস্ট নিউজ’ (১৯৮৭) সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে সাউন্ড মিক্সার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯১ সালে অ্যালবার্ট ব্রুকসের ‘ডিফেন্ডিং ইয়োর লাইফ’, জো জনস্টনের ‘দ্য রকেটিয়ার’ এবং টেরি গিলিয়ামের ‘দ্য ফিশার কিং’ এ তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী বছরগুলোতে রিচার্ড ডোনারের ‘লেথাল ওয়েপন ৩’ (১৯৯২), ওয়ারেন বিটির ‘বুলওর্থ’ (১৯৯৮) এবং স্টিভেন সোডারবার্গের ‘এরিন ব্রকোভিচ’ (২০০০) তে তিনি সাউন্ড মিক্সিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

স্টার ট্রেক সিরিজের সাউন্ড মিক্সিংয়ে কজির নামও রয়েছে; তিনি ‘জেনারেশনস’ (১৯৯৪), ‘ফার্স্ট কন্ট্যাক্ট’ (১৯৯৬), ‘ইনসুরেকশন’ (১৯৯৮) এবং ‘নেমেসিস’ (২০০২) ছবিগুলোর সাউন্ড টিমের অংশ ছিলেন। এই কাজগুলো তাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জগতে একটি বিশেষ স্থান এনে দেয়।

কাজের পরিধি বিস্তৃত ছিল; তিনি জিম অ্যাব্রাহামসের সঙ্গে ‘রুথলেস পিপল’ (১৯৮৬), ‘দ্য নেকেড গন: ফ্রম দ্য ফাইলস অব পুলিস স্কোয়াড!’ (১৯৮৮), ‘বিগ বিজনেস’ (১৯৮৮) এবং ‘হট শট!’ সিরিজ (১৯৯১, ১৯৯৩) তে সাউন্ড মিক্সার হিসেবে কাজ করেন। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তার সাউন্ড ডিজাইন হাস্যরসের সঙ্গে মিশে দর্শকের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

কজি ১৯৯০ সালে ‘ডিক ট্রেসি’ ছবিতে অস্কার নোমিনেশন পেয়েছিলেন, যেখানে তিনি ক্রিস জেনকিন্স, ডেভিড ই. ক্যাম্পবেল এবং ডগ হেমফিলের সঙ্গে টিম গঠন করে ডিজিটাল সাউন্ড রেকর্ডিং প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো বৈশিষ্ট্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করেন। এই দলটি ফিচার ফিল্মে ডিজিটাল সাউন্ডের নতুন যুগের সূচনা করে।

১৯৮১ সালে নেটওয়ার্ক টিভি টেলিফিল্ম ‘ফায়ার অন দ্য মাউন্টেন’ মিক্সিংয়ের জন্য তিনি এমি নোমিনেশনও পেয়েছিলেন, যা টেলিভিশন সাউন্ডের মানোন্নয়নে তার অবদানের স্বীকৃতি ছিল।

ডিজিটাল সাউন্ড রেকর্ডিং প্রযুক্তি নিয়ে তার অগ্রগতি শিল্পের মানদণ্ডকে পরিবর্তন করে, ফলে পরবর্তী প্রজন্মের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়াররা আরও স্বচ্ছন্দে সৃজনশীল কাজ করতে পারলেন। তার কাজের গুণমান এবং পেশাদারিত্বের জন্য তিনি বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন, যদিও তিনি নিজে কখনো অতিরিক্ত প্রচার বা গৌরবের সন্ধান করেননি।

ব্যক্তিগত জীবনে কজি নিউ অরলিন্সে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও শ্রীভেপোর্টে বড় হয়েছেন এবং পরিবারে তিনি একজন গর্বিত পিতা ও দাদা ছিলেন। তার কন্যা-ভাইবোন এবং বোনের স্বামী ক্রিস্টাল কজি পরিবারকে তার শেষ মুহূর্তে সমর্থন করেন।

সাউন্ড মিক্সার হিসেবে তার চার দশকের ক্যারিয়ার হলিউডের সেরা চলচ্চিত্রগুলোতে ছাপ ফেলেছে এবং তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাউন্ড টেকনিশিয়ানদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শিল্পের সহকর্মীরা তার পেশাদারিত্ব, নীরবতা এবং কাজের প্রতি নিবেদনকে স্মরণ করবেন। থমাস কজির মৃত্যু সাউন্ড আর্টের একটি যুগের সমাপ্তি নির্দেশ করে, তবে তার সৃষ্টিগুলো সিনেমা প্রেমীদের জন্য চিরকাল বেঁচে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments