মাইকেল ক্যারিক ২৩ আগস্ট ২০০৬-এ চার্লটনকে ০-৩ তে পরাজিত করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামেন। ২৫ বছর বয়সী নতুন খেলোয়াড়টি দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তনশীল হিসেবে প্রবেশ করেন, যখন প্রি‑সিজন ট্যুরে ছোটখাটো আঘাতের পর তিনি পুনরুদ্ধার করছিলেন। এই ম্যাচে ওয়েইন রুনি ও পল শোলসের সাসপেনশন থাকায় স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন জন ও’শিয়া ও ড্যারেন ফ্লেচারকে কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডে বেছে নেন।
ইউটিএফের ঐ দিন ও’শিয়া প্রথম গোল করেন, যখন রায়ান গিগস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দুবার কাঠের ফ্রেমে আঘাত করেন। ক্যারিকের উপস্থিতি দলকে নতুন গতিশীলতা এনে দেয়, এবং তিনি ও’শিয়ার গোলের পরই আক্রমণকে সমর্থন করেন। একই ম্যাচে ড্যানিয়েল পার্কের পরিবর্তে ৭৭তম মিনিটে ক্যারিক মাঠে প্রবেশ করেন, যা তার ভবিষ্যৎ ম্যানেজারিয়াল ক্যারিয়ারের সূচনা করে।
সেই দলে ক্যারিকের পাশাপাশি ড্যারেন ফ্লেচার, রায়ান গিগস এবং ওলে গুনার সোলস্কজারও ছিলেন, যাঁরা পরবর্তীতে ইউনাইটেডের হেড কোচের দায়িত্বে আসেন। সোলস্কজার ৩ বছর দীর্ঘ আঘাতের পর প্রথম লিগ গোল করেন, যখন ক্যারিকের নিখুঁত পাসে স্ট্রাইকারকে সুযোগ তৈরি হয়, তবে চার্লটনের স্কট কারসন চমৎকার সেভ করে গোল রোধ করেন।
ক্যারিকের তৎক্ষণাৎ প্রভাব ইউনাইটেডকে ২০০৭ সালের মে মাসে শিরোপা জিততে সহায়তা করে, যা চার বছর পর প্রথম শিরোপা ছিল। সেই মৌসুমে দল ৪‑৪‑২ ফরমেশন ব্যবহার করে, যেখানে ভ্যান ডার সার, ব্রাউন, ফের্ডিনান্ড, সিলভেস্ট্রে, ইভ্রা, রোনালদো, ও’শিয়া, ফ্লেচার, পার্ক (ক্যারিক ৭৭তম মিনিটে), গিগস (সোলস্কজার ৮২তম মিনিটে), এবং সাহা খেলেছেন। বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে কুশচাক, রোসি ও রিচার্ডসন ব্যবহার করা হয়নি।
ক্যারিকের শেষ মৌসুমে, ২০১৭‑২০১৮, তিনি মাত্র পাঁচটি ম্যাচে অংশ নেন, তবে ৪৬৪তম উপস্থিতিতে তিনি স্মরণীয় ছাপ রেখে যান। ১৩ মে ২০১৮-এ ওয়াটফোর্ডের বিরুদ্ধে ১‑০ জয়ে তিনি মর্কাস রাশফোর্ডের গোলের প্রস্তুতিতে চূড়ান্ত পাস দেন, যা তার শেষ গেমের বিজয়ী মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
সেই ম্যাচে ক্যারিক দিনের ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং উভয় দলই তাকে সম্মানসূচক গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানায়। ৮০তম মিনিটে পল পোগবায় পরিবর্তন হওয়ার সময় দর্শকরা তাকে উঁচু করে তালি দিয়ে বিদায় জানায়, যা তার ক্যারিয়ারের শেষের চিহ্ন।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, ক্যারিক ওয়াটফোর্ডের বিরুদ্ধে ইউনাইটেডের মধ্যে সর্বাধিক পাস এবং স্পর্শের সংখ্যা রেকর্ড করেন, যা তার অভিজ্ঞতা ও মাঠে প্রভাবের প্রমাণ।
এই গেমটি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ পর প্রথম ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়, ফলে ভক্তরা তার স্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করে গানের সুরে স্টেডিয়ামকে গুঞ্জন করায়।



