ফ্লোরিডার এক গরু পালনের রাঞ্চে জন্ম নেওয়া ক্লিন্ট বেন্টলি, তার দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ট্রেইন ড্রিমস’ দিয়ে আবারও অস্কার অভিযানে নামেছেন। এই ছবিটি নেটফ্লিক্সের মূলধারার পুরস্কারপ্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছে এবং প্রোডিউসারস গিল্ড অফ আমেরিকা ও ইন্ডি স্পিরিটসের মতো সংস্থার সর্বোত্তম চলচ্চিত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বেন্টলি প্রথমবারের মতো অস্কার নোমিনেশন পেয়েছিলেন ‘সিং সিং’ ছবির সহ-লেখক হিসেবে, যা গ্রেগ কেডার পরিচালিত একটি কারাগার-ভিত্তিক নাটক এবং কলম্যান ডোমিঙ্গোর প্রধান ভূমিকায়। সেই স্বীকৃতি তাকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত করিয়ে দেয় এবং ‘ট্রেইন ড্রিমস’ এর জন্য তার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়।
‘ট্রেইন ড্রিমস’ ডেনিস জনসনের একই নামের উপন্যাস থেকে রূপান্তরিত, যেখানে জোয়েল এডগার্টন এক শতাব্দীর শুরুর দিকে লোগার হিসেবে কাজ করা একজন মানুষের জীবনের গল্পে অভিনয় করেছেন। ছবিটি দশকের পর দশকে বিস্তৃত, যেখানে প্রেম, বিচ্ছেদ, শোক ও মুক্তির মুহূর্তগুলোকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
দৃশ্যমান দিক থেকে ছবিটি আদোলফো ভেলোসোর ক্যামেরা কাজের মাধ্যমে সমৃদ্ধ, যা প্রাকৃতিক দৃশ্যের রঙিনতা ও বিস্তৃততা প্রকাশ করে। এডগার্টনের অভিনয় নীরব কিন্তু গভীর, যা চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে মূর্ত করে। বেন্টলি ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর গতি বেছে নিয়েছেন, যাতে দর্শক প্রতিটি মুহূর্তে ডুবে যেতে পারে।
‘ট্রেইন ড্রিমস’ নেটফ্লিক্সের মূলধারার পুরস্কারপ্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, এটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছাবে। ছবিটি স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে এবং এখন বিভিন্ন পুরস্কার সংস্থার সর্বোত্তম চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে।
বেন্টলির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘জকি’ সমালোচকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছিল, যা তাকে স্বতন্ত্র শৈলীর স্বীকৃতি এনে দেয়। ‘ট্রেইন ড্রিমস’ তার দ্বিতীয় পরিচালনায়, তিনি পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে আরও বিস্তৃত কাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছেন, তবে তার স্বকীয় শৈলী বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
ফ্লোরিডার গ্রামীণ অঞ্চলে বড় হওয়ায়, বেন্টলি শৈল্পিক সিনেমা হলের সুবিধা পেতেন না। তার এই পটভূমি তাকে এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করার প্রেরণা দেয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত এবং দর্শকের হৃদয়ে সরাসরি পৌঁছায়। তিনি বলেন, তিনি এমন একটি কাজ করতে চেয়েছিলেন যা তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে প্রতিফলিত করে।
শৈলীগত দিক থেকে, বেন্টলি ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে গুরুত্ব দেন, যা গল্পের প্রবাহে গভীরতা যোগ করে। তিনি তার চলচ্চিত্রে দর্শকের জন্য চিন্তার জায়গা রেখে দেন, একই সঙ্গে তার নিজস্ব শিল্পী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। এই পদ্ধতি তাকে সমসাময়িক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে।
স্যান্ড্যান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে ‘ট্রেইন ড্রিমস’ নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, যা বেন্টলির আন্তর্জাতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করছেন, তবে এখনের জন্য ‘ট্রেইন ড্রিমস’ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
বেন্টলির যাত্রা দেখায় যে, গ্রামীণ পটভূমি থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। ‘ট্রেইন ড্রিমস’ তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও কাহিনীর গভীরতা প্রকাশের একটি নতুন মঞ্চ, যা নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছাবে।



