গৃহ মন্ত্রণালয় ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময় বিদেশী নাগরিকদের ভিসা-অন-অ্যারাইভাল এবং অন্যান্য ভিসা ইস্যুতে কঠোরতা আনার জন্য একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে। নির্দেশটি ১২ জানুয়ারি গৃহ মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন-৫ শাখা থেকে ডেপুটি সেক্রেটারি মোঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এবং তা তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে।
নোটিশে দেশীয় মিশন ও দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভিসা ইস্যু করার সময় বর্তমান ভিসা নীতি ও পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিগুলো মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের যথাযথ যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, স্পনসর সংস্থা বা ব্যক্তির তথ্য, হোটেল বা অন্যান্য বাসস্থানের ঠিকানা, এবং ফিরে যাওয়ার টিকিটের প্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হবে। কোনো অসঙ্গতি, সন্দেহ বা অনিয়ম দেখা দিলে ভিসা প্রদান করা যাবে না।
বিদেশী সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য গৃহ মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি প্রয়োজন হবে বলে নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল প্রক্রিয়ায় বিশেষ একটি “নির্বাচন পর্যবেক্ষণ” সিল যুক্ত করা হবে। এই সিলটি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, কমিশনের সুপারিশ ও প্রয়োজনে পররাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রদান করা হবে। এছাড়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফ করা হতে পারে, যা নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্র ও সড়ক বন্দরগুলোতে কাজ করা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ভিসা ইস্যু এবং বিদেশী নাগরিকদের আগমন-প্রস্থানের সময় ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
গৃহ মন্ত্রণালয় এছাড়াও বাংলাদেশী মিশন ও দূতাবাস, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ, বিশেষ শাখা এবং আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বন্দরগুলোর কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিনের ভিসা ও বিদেশী চলাচল সংক্রান্ত বিশদ তথ্য এক্সেল ফরম্যাটে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারের কাছে বাস্তব সময়ে ভিসা প্রবাহের পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
নির্দেশটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হওয়ায় সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরকে দ্রুতই নতুন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচনের সময় বিদেশী নাগরিকদের প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ন্ত্রণে এই কঠোরতা দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



