দলীয় সমন্বয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জামাত‑ইসলামী এবং তার সাতটি মিত্রদল, যার মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) অন্তর্ভুক্ত, এখন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য নতুন দলগুলোরও অংশগ্রহণের কারণে আরও জটিলতা পেরিয়ে চলেছে। নির্বাচনের জন্য নাম প্রস্তাবের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, আর উভয় দিকের নেতৃত্বের মতে আজকের মধ্যে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ ডিসেম্বর শুরু হয়। প্রথমে উভয় পক্ষের আশাবাদী ছিল যে আটটি সমমনা দলের প্রার্থীর তালিকা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা যাবে। তবে পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে নতুন দলগুলোর যোগদানের ফলে সমন্বয় প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোতে থাকে।
আইএবি সেক্রেটারি জেনারেল ইউনুস আহমেদ জানান, জামাত‑ইসলামী ও আইএবির শীর্ষ নেতারা গত রাতে একত্রিত হয়ে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি যোগ করেন, তালিকাটি আগামীকাল অথবা পরের দিন একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
জামাত‑ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন ভাগের আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। তিনি কোনো মতবিরোধের ইঙ্গিত দেননি।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও পার্টির পাবলিসিটি বিভাগ প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবাইর উল্লেখ করেন, তারা ২৯ ডিসেম্বরের নাম প্রস্তাবের শেষ তারিখের আগে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখছে। তবে নতুন যোগদানকারী দলগুলোর, বিশেষ করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির অংশগ্রহণের কারণে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
জুবাইর আরও বলেন, আটটি সমমনা দলের পাশাপাশি নতুন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রার্থীর তালিকাও এক দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। এ সময়ে যদি কোনো নির্বাচনী এলাকায় পারস্পরিক সমঝোতা না হয়, তবে একাধিক প্রার্থী একসাথে নাম প্রস্তাব জমা দিতে পারেন, পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করা হবে।
একজন শীর্ষ জামাত নেতার সহকারী জানান, আলোচনার গুরুত্বের কারণে উচ্চপদস্থ নেতারা পূর্বে নির্ধারিত অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে আলোচনায় লিপ্ত হয়েছেন। এই পদক্ষেপটি সমন্বয় প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
আসন ভাগের সমঝোতা নির্বাচনী জোটের পারফরম্যান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। সমন্বিত জোটের শক্তি ও প্রভাব নির্ভর করবে কতটা সুষ্ঠুভাবে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা যায় এবং ভোটারদের কাছে তা কতটা স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা যায়।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ও অন্যান্য নতুন দলগুলোও সমন্বয় প্রক্রিয়ায় নিজেদের অংশগ্রহণের দাবি রাখছে। তাদের যোগদানের ফলে মূল আটটি দলের মধ্যে আসন ভাগের সমতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আলোচনার জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে উভয় দিকের নেতৃত্বের মতে, প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য আর মাত্র এক দুই দিন বাকি। তালিকাটি শেষ হওয়ার পর নাম প্রস্তাবের শেষ তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট সকল দল একত্রে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে ফলাফল জানাবে।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পরবর্তী ধাপের দিকে নজর দিচ্ছেন। যদি তালিকা চূড়ান্ত হয় এবং সমঝোতা অনুযায়ী প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে নির্বাচনী জোটের গঠন স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং ভোটারদের কাছে তাদের সমন্বিত কৌশল উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
অবশেষে, নাম প্রস্তাবের শেষ তারিখের আগেই তালিকা প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি চলছে। উভয় দিকের নেতৃত্বের মতে, প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে তালিকা প্রকাশের পরই ভোটারদের কাছে সমন্বিত জোটের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জানানো হবে।



