দলীয় জোটের ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা আজ (১৪ জানুয়ারি) একত্রে বসে আসন ভাগাভাগি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং বিকাল‑সন্ধ্যায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফল জানাবেন। এই সমঝোতা সভা পূর্বে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (বাজি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইএবি) পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে।
বুধবার দুপুরে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা একটি যৌথ বৈঠকে একত্রিত হবেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল আসন সমঝোতার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ এবং তা পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা। বৈঠকের পর বিকেল বা সন্ধ্যায় একই জোটের নেতারা একত্রে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হয়ে প্রত্যেক দলের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা জানাবেন।
বাজি ও ইএবির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপের পর জানা গেছে, অন্তত চারটি দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজি-র নায়েবের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (ডা. তাহের) মঙ্গলবারের বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে, আগামীকাল সকালেই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জানিয়ে দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শীর্ষ নেতারা প্রথমে একত্রে বৈঠক করবেন, তারপর চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।
ডা. তাহের আরও জানান, আসন সমঝোতার চূড়ান্ত তালিকা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে এবং ইএবি জোটে অব্যাহত থাকবে কিনা তা এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, শেষ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানার জন্য আগামীকালই অপেক্ষা করতে হবে।
কেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডা. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, এখনো কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, তবে কথাবার্তা চলছে এবং কালই সবকিছু চূড়ান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি যোগ করেন, সম্ভবত কালই সকল দল একসঙ্গে বসে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন করবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এর সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, মঙ্গলবার রাত ১ টায় নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন যে, ১৩টি সংসদীয় আসন নিয়ে ১১ দলের চূড়ান্ত তালিকা আগামীকাল (১৪ জানুয়ারি) বুধবার বিকাল ৪:৩০ টায় ঘোষণা করা হবে, ইনশাআল্লাহ। এই তথ্য জোটের অন্যান্য দলের সঙ্গে সমন্বয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইএবির শীর্ষ নেতারা একই দিনে সন্ধ্যায় বৈঠকে অংশ নেন, তবে বৈঠক সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত চলার ফলে কোনো প্রতিনিধির সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বৈঠকের সময় কোনো ফোন কলের উত্তরও দেওয়া হয়নি।
দলীয় মহাসচিব ও অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ রাত্রিকালীন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, দলের যুগ্ম সম্পাদক শেখ ফজলে বারী মাসুদ রাত্রিকালীন আসন সমঝোতা নিয়ে একটি মিটিং চলছে বলে মিডিয়াকে জানিয়েছেন এবং আরও একটি চূড়ান্ত বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে উল্লেখ করেছেন।
এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ২০২৬ সালের ১৪ই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব পড়বে। চূড়ান্ত আসন তালিকা প্রকাশের পর প্রতিটি দল তাদের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করবে এবং ভোটারদের কাছে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
অবশ্যই, আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হওয়ার পর জোটের অভ্যন্তরে কোনো বিরোধ বা পুনর্বিবেচনা হলে তা আবার আলোচনার বিষয় হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যন্ত সব দলই ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সমঝোতা সম্পন্ন করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা চিহ্নিত করবে। সকল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা এই ঘোষণার পরবর্তী প্রভাবের দিকে নজর রাখবেন।



