স্টার্ট‑আপ Ammobia হ্যাবার‑বোশ প্রক্রিয়ার নতুন সংস্করণ দিয়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের ব্যয় প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমাতে সক্ষম বলে দাবি করেছে। কোম্পানি এই প্রযুক্তি প্রমাণের জন্য $7.5 মিলিয়ন সিড রাউন্ড সংগ্রহ করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে Air Liquide‑এর ভেঞ্চার শাখা ALIAD, Chevron Technology Ventures, Chiyoda Corporation, MOL Switch এবং Shell Ventures।
অ্যামোনিয়া পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক, যা সঠিকভাবে না থাকলে ফসলের ফলন কমে যায় এবং মানবজাতির খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। হ্যাবার‑বোশ প্রক্রিয়া একশ বছর আগে আবিষ্কৃত হয় এবং তৎপর্য থেকে তেমন পরিবর্তন না পেয়ে চলেছে। এই প্রক্রিয়ায় লোহার ক্যাটালিস্ট ব্যবহার করে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনকে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে যুক্ত করা হয়।
Ammobia‑এর নতুন পদ্ধতি একই রসায়নিক বিক্রিয়া বজায় রেখে তাপ ও চাপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, ফলে জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। কোম্পানির সিইও ক্যারেন বেয়ার্ট উল্লেখ করেছেন, অ্যামোনিয়া সহজে পরিবহন ও সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় এটি হাইড্রোজেনের তুলনায় বেশি ব্যবহারিক। এই সুবিধা শিল্প ও পরিবহন খাতে ডিকার্বোনাইজেশন পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্বের কিছু দেশ, বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, অ্যামোনিয়াকে হাইড্রোজেনের বিকল্প হিসেবে রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তারা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন, জাহাজ চালনা এবং অন্যান্য শিল্প প্রক্রিয়ায় কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য রাখে। হাইড্রোজেনের তুলনায় অ্যামোনিয়ার শক্তি ঘনত্ব বেশি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোতে সহজে সংযোজন সম্ভব, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে হ্যাবার‑বোশ প্রক্রিয়া নিজেই বৈশ্বিক গ্রীনহাউস গ্যাসের প্রায় ২% উৎপাদনের জন্য দায়ী। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় ৫০০°C) ও উচ্চ চাপ (প্রায় ২০০ বার) বজায় রাখতে প্রায়শই ফসিল জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া হাইড্রোজেনের বড় অংশই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপন্ন হয়, যা অতিরিক্ত কার্বন নির্গমন ঘটায়।
Ammobia‑এর প্রযুক্তি এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চায়, যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবেশগত প্রভাব কমে। নতুন ক্যাটালিস্ট ও প্রক্রিয়া নকশা ফসিল জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত করা সহজ করে। ফলে ভবিষ্যতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন আরও টেকসই হয়ে উঠতে পারে।
কোম্পানি ইতিমধ্যে প্রোটোটাইপ স্তরে পরীক্ষামূলক ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে উৎপাদন খরচের উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। এই ফলাফলগুলোকে বৃহত্তর শিল্প স্কেলে প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন। সিড রাউন্ডের তহবিল মূলত পাইলট প্ল্যান্ট নির্মাণ ও বাজারে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হবে।
Ammobia‑এর বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের প্রযুক্তিতে আগ্রহী কারণ এটি শক্তি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে দু’টি লক্ষ্য একসাথে পূরণ করতে পারে। Air Liquide‑এর ALIAD বিশেষ করে শিল্প গ্যাসের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে এই প্রকল্পকে কৌশলগত বলে বিবেচনা করেছে। Chevron Technology Ventures এবং Shell Ventures তাদের নিজস্ব হাইড্রোকার্বন ব্যবসার পাশাপাশি পরিষ্কার জ্বালানির বিকল্প অনুসন্ধানে এই উদ্যোগকে সমর্থন দিচ্ছে।
প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি, কোম্পানি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হ্যাবার‑বোশ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন মানে নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল ও পরিবেশগত মূল্যায়ন প্রয়োজন। এই দিকগুলোতে সাফল্য পেলে, Ammobia দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে।
অ্যামোনিয়া উৎপাদনের খরচ কমলে কৃষি সেক্টরে সরাসরি প্রভাব পড়বে। সস্তা অ্যামোনিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে, ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য হ্রাসে অবদান রাখতে পারে।
শক্তি খাতে, অ্যামোনিয়া জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাহাজ চালনার খরচ কমে যাবে। বিশেষ করে দূরবর্তী দ্বীপ বা গ্রামীণ এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন, অ্যামোনিয়া ভিত্তিক জেনারেটর একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
অ্যামোনিয়া সংরক্ষণ ও পরিবহন সহজ হওয়ায় লজিস্টিক্স খরচও কমে। বর্তমানে হাইড্রোজেনের জন্য বিশেষ ট্যাংক ও পাইপলাইন দরকার, যা উচ্চ বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। অ্যামোনিয়া বিদ্যমান তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে সহজে সংযোজন করা যায়, ফলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের খরচ কমে।
বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হ্যাবার‑বোশের বিকল্প বা উন্নত সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে, তবে Ammobia‑এর পদ্ধতি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খরচ হ্রাসের দাবি করে। এই প্রযুক্তি যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তবে তা শিল্পের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারসংক্ষেপে, Ammobia হ্যাবার‑বোশ প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়িয়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের খরচ কমাতে চায়, যা কৃষি, শক্তি ও পরিবহন খাতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। বিনিয়োগকারীদের সমর্থন ও প্রোটোটাইপ সফলতা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার মূল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কীভাবে গৃহীত হবে, তা শিল্পের পরিবেশগত দায়িত্ব ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতার মধ্যে সমন্বয় নির্ধারণ করবে।



