মাইক্রোসফট মঙ্গলবার AI অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যেখানে নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ খরচে বাড়তি বোঝা না দিতে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে, ডেটা সেন্টার স্থাপনের সময় স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং বিদ্যুৎ মূল্য বাড়বে না তা নিশ্চিত করবে।
গত বছর মাইক্রোসফট AI ক্ষমতা বাড়াতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল, ফলে ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে, ডেটা সেন্টার নিয়ে পরিবেশগত ও সামাজিক উদ্বেগ বাড়ার ফলে বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি সম্প্রদায়ের স্বার্থ বিবেচনা করে নতুন নীতি গ্রহণের সংকেত দিয়েছে। মেটা সম্প্রতি নিজস্ব AI অবকাঠামো চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে, যা মাইক্রোসফটের ঘোষণার সঙ্গে সমান্তরালভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
মাইক্রোসফটের নতুন নীতির মূল অংশ হল স্থানীয় বিদ্যুৎ সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সমঝোতা করে, ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি খরচের পূর্ণ অংশ কোম্পানি নিজে বহন করবে। এভাবে বিদ্যুৎ মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ও রাজ্য কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে, বাড়ির গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত খরচ চাপা না দেওয়া হবে। কোম্পানি জোর দিয়ে বলেছে, ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য যে বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, তার খরচ কেবলমাত্র মাইক্রোসফটের দায়িত্বে থাকবে।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি মাইক্রোসফট স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার সময় স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরণের কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে কোম্পানি জানিয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যার উল্লেখ করা হয়নি, তবে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জলসম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও মাইক্রোসফট সতর্কতা প্রকাশ করেছে। কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে নির্মিত সেন্টারগুলোতে জল ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস করা হবে। এটি ডেটা সেন্টারকে ঘিরে জলসম্পদ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়।
মাইক্রোসফটের এই ঘোষণার পেছনে AI প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট রয়েছে। কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে, AI মডেল প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য বিশাল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন, যা ডেটা সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তবে সম্প্রদায়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে, বিদ্যুৎ ও জল ব্যবহারে দায়িত্বশীল পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।
এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য মাইক্রোসফট স্থানীয় ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যুক্ত হবে এবং বিদ্যুৎ মূল্যের নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে। এছাড়া, সরকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রাপ্ত করে, ডেটা সেন্টার চালনার সময় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে না তা নিশ্চিত করবে।
মাইক্রোসফটের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি শিল্পে সম্প্রদায়-প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত দায়িত্ব এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে সমন্বিত করার এই প্রচেষ্টা, ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মাইক্রোসফট AI অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যেখানে নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার সময় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিল বাড়বে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জল ব্যবহার কমানো হবে—এগুলোই কোম্পানির ‘কমিউনিটি-ফার্স্ট’ নীতির মূল দিক। এই নীতি বাস্তবায়ন হলে, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।



