Ring-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমি সিমিনফ ২০২৪ সালের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো (CES)‑এর আগে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ফিচার প্রকাশ করে, যা কোম্পানিটিকে শুধুমাত্র ভিডিও ডোরবেল থেকে সম্পূর্ণ স্মার্ট হোম সহকারীতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে। এই পরিবর্তনের পেছনে AI‑এর সম্ভাবনা এবং প্যালিসেডসের এক অগ্নিকাণ্ডে তার গ্যারেজ ধ্বংসের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
সিমিনফের প্রথম উদ্যোগ Ring তার গ্যারেজে শুরু হয়, যেখানে তিনি ভিডিও ডোরবেল তৈরি করে বাজারে প্রবেশ করান। ২০২০ সালে প্যালিসেডসের অগ্নিকাণ্ডে সেই গ্যারেজ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, যা তার জন্য এক রূপান্তরমূলক মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। গ্যারেজের ধ্বংসের পরও সিমিনফ Ring‑এর প্রযুক্তি উন্নয়নে অটল ছিলেন এবং ২০১৯ সালে কোম্পানিটিকে অ্যামাজনের কাছে বিক্রি করেন।
বিক্রয়ের পরেও সিমিনফ Ring‑এর প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনা গঠনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি অ্যামাজনের অধীনে দ্রুতগতিতে কাজ চালিয়ে গিয়ে, কোম্পানির পণ্য লাইনকে বিস্তৃত করতে এবং নতুন বাজারে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন। তবে ২০২৩ সালে, বিক্রয়ের পাঁচ বছর পর, তিনি অনুভব করেন যে কাজের তীব্রতা অতিরিক্ত হয়ে গেছে এবং নিজের জন্য সময় বের করা প্রয়োজন।
AI‑এর দ্রুত অগ্রগতি সিমিনফকে আবার Ring‑এর মূল মিশনে ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন, AI‑এর সম্ভাবনা দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে Ring‑কে কেবল দরজার ক্যামেরা নয়, পুরো বাড়ির জন্য একটি বুদ্ধিমান সহকারী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে কোম্পানির ভবিষ্যৎ কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করে।
CES‑এর আগে Ring কয়েকটি নতুন ফিচার চালু করে, যা AI‑এর ব্যবহারকে বাড়িয়ে দেয়। নতুন ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্নি সতর্কতা, অস্বাভাবিক ঘটনার সনাক্তকরণ, কথোপকথনমূলক AI, এবং মুখমণ্ডল সনাক্তকরণ। এসব ফিচার Ring‑এর ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে রিয়েল‑টাইমে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানাতে সক্ষম।
অগ্নি সতর্কতা ফিচারটি গৃহে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে, যাতে ব্যবহারকারী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। অস্বাভাবিক ঘটনার সনাক্তকরণ সিস্টেমটি অস্বাভাবিক গতি বা অপ্রত্যাশিত ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশন পাঠায়। কথোপকথনমূলক AI ব্যবহারকারীকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ডোরবেল নিয়ন্ত্রণ, ক্যামেরা চেক করা এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে দেয়। মুখমণ্ডল সনাক্তকরণ ফিচারটি পরিচিত ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করে, যা নিরাপত্তা বাড়ায়।
এইসব উন্নয়নের সঙ্গে গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগও বাড়ছে। ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলছেন যে, বাড়ির নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত ডেটা শেয়ার করা কতটা নিরাপদ। Ring‑এর নতুন ফিচারগুলো ব্যবহারকারীকে সুবিধা প্রদান করলেও, গোপনীয়তা রক্ষার জন্য স্পষ্ট নীতি ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য।
সিমিনফ AI‑কে উল্টো করে “IA” (Intelligent Assistant) বলা শুরু করেন, যার অর্থ হল বুদ্ধিমান সহকারী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই পদ্ধতি ব্যবহারকারীর মানসিক চাপ কমিয়ে, দৈনন্দিন কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করে বাড়ির পরিবেশকে আরও স্মার্ট করে তুলবে। তার মতে, AI‑এর মাধ্যমে গৃহস্থালির কাজগুলোকে সহজ করা সম্ভব, ফলে মানুষকে কম চিন্তায় বেশি সময় ব্যয় করতে হবে।
অ্যামাজন থেকে সিমিনফের প্রস্থান মূলত ব্যবসায়িক স্বায়ত্তশাসন ও পণ্যের লাভজনকতা বজায় রাখার ইচ্ছা থেকে হয়। Ring ইতিমধ্যে বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে এবং লাভজনকতা অর্জন করেছে, যা তাকে নতুন উদ্যোগে ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন কমিয়ে দেয়। তিনি নতুন কোনো স্টার্টআপ শুরু না করে Ring‑এর প্ল্যাটফর্মে AI‑এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেশি আগ্রহী।
সিমিনফের মতে, AI‑এর উন্মোচন Ring‑কে কেবল নিরাপত্তা ডিভাইসের সীমা ছাড়িয়ে, একটি সমন্বিত স্মার্ট হোম ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করবে। ভবিষ্যতে Ring‑এর ডোরবেল, ক্যামেরা এবং অন্যান্য সেন্সরগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ির সব কোণায় নজরদারি, অগ্নি সনাক্তকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি গৃহ নিরাপত্তা শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। যদি Ring সফলভাবে AI‑কে তার মূল পণ্যের সঙ্গে একীভূত করতে পারে, তবে অন্যান্য স্মার্ট হোম কোম্পানিগুলোর জন্যও একই রকম রোডম্যাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা বাড়িতে আরও নিরাপদ, স্বয়ংক্রিয় এবং সুবিধাজনক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, জেমি সিমিনফের AI‑চালিত রূপান্তর পরিকল্পনা Ring‑কে ভিডিও ডোরবেল থেকে একটি বিস্তৃত বুদ্ধিমান গৃহ সহকারীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। নতুন ফিচারগুলো প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত হলেও গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



