সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সমিতি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১১ টা থেকে রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধের পরিকল্পনা জানায়। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন‑২০২৫‑এর চূড়ান্ত অনুমোদন এবং দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করানো। শিক্ষার্থীরা দাবি করে, আইনটি অনুমোদিত না হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
বুধবারের ঘোষণার আগে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবরোধের সময়সূচি ও স্থান নির্ধারিত হয়েছে এবং তা মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই প্রকাশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, শিক্ষার্থীরা পূর্ব পরিকল্পনা করে জনসাধারণকে জানাতে চেয়েছে।
অবরোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তিনটি স্থান নির্ধারিত হয়েছে: সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল এবং তাঁতীবাজার মোড়। এই স্থানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে, কারণ সেগুলো শহরের প্রধান রাস্তায় অবস্থিত এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলকে প্রভাবিত করতে পারে। শিক্ষার্থীরা আশা করে, এই বাধা সৃষ্টি করে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।
অবরোধের কার্যকরী তারিখ ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। এই দিনটি নির্বাচিত করা হয়েছে কারণ একই দিনে উপদেষ্টা পরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই সভাকে কেন্দ্র করে তাদের দাবির ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন চায়।
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন‑২০২৫‑এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে বলে জানা গেছে। আইনটি অনুমোদিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টি তুলে ধরে, সরকারের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি করে। তারা উল্লেখ করে, অধ্যাদেশ ছাড়া আইনটি কার্যকর করা সম্ভব নয় এবং শিক্ষার স্বার্থে তা ত্বরান্বিত করা জরুরি।
শিক্ষার্থীরা জানান, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, ডিসেম্বরের মধ্যেই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জানুয়ারির শুরুর দিকে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। তবে, নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।
বৈঠকের পরেও অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, সরকার যদি সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়, তবে শিক্ষার স্বার্থে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। এই অবস্থায় অবরোধকে একটি চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
একটি সূত্রের মতে, উপদেষ্টা পরিষদের সভা ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে, যাতে সভার সময় তাদের দাবি সরাসরি উপস্থাপন করা যায়। তারা আশা করে, এই সময়ে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তারা উল্লেখ করে, অবরোধের পাশাপাশি অন্যান্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদমূলক কার্যক্রমও চালু থাকবে। এই অবস্থান থেকে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার রক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই ধরনের ছাত্র আন্দোলন পূর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরও একই ধরনের দাবির জন্য শিক্ষার্থীরা রাস্তায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল। ঐ সময়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করেছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আশাবাদ বাড়িয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, অবরোধের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইনগত দিক থেকে সচেতন থাকা। যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই প্রতিবাদে অংশ নিতে চান, তবে আগে থেকে স্থানীয় আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা সম্পর্কে জানুন। এভাবে আপনি নিজের এবং অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।
অবশেষে, আপনি কি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের এই ধরনের অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি অর্জন করা সম্ভব হবে? আপনার মতামত জানিয়ে আলোচনায় অংশ নিন।



