গুগল সম্প্রতি তার এআই‑চালিত শপিং এজেন্টের জন্য একটি নতুন ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকল চালু করেছে। একই দিনে গ্রাউন্ডওয়ার্ক কলাবোরেটিভের নির্বাহী পরিচালক লিন্ডসে ওয়েনস এই প্রোটোকলকে নিয়ে ভোক্তাদের জন্য ঝুঁকি উল্লেখ করেন। ওয়েনসের পোস্টটি টুইটার (X)‑এ প্রায় চার লক্ষ বার দেখা হয়েছে এবং তা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
গুগলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন প্রোটোকলটি সার্চ এবং জেমিনি সহ বিভিন্ন এআই সেবা থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয়ের সুবিধা দেবে। এতে বিক্রেতারা এআই‑শপিং এজেন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের চ্যাট ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত পণ্য সুপারিশ করতে পারবে। গুগল এটিকে “ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকল” নামে পরিচিত করে এবং ন্যাশনাল রিটেল ফেডারেশন (NRF) সম্মেলনে সান্দার পিচাই এই দিকটি তুলে ধরেন।
গ্রাউন্ডওয়ার্কের ওয়েনস প্রোটোকলের রোডম্যাপ পর্যালোচনা করে দেখেন, সেখানে “আপসেলিং” নামে একটি ফিচার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর চ্যাট ইতিহাস বিশ্লেষণ করে উচ্চমূল্যের পণ্য প্রস্তাব করতে পারে, যা ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচের দিকে ধাবিত হতে পারে। এছাড়া তিনি গুগলের নতুন সদস্যের জন্য ছাড় বা লয়্যালটি ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনাও উল্লেখ করেন, যা পিচাইয়ের বক্তব্যে উল্লেখিত ছিল।
গুগল এই অভিযোগের প্রতি টুইটারে দ্রুত উত্তর দেয়। গুগলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিক্রেতারা গুগলের প্ল্যাটফর্মে তাদের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দেখাতে পারবে না, এবং এই নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। “আপসেলিং” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে মানে বিক্রেতা গ্রাহকের পছন্দের ভিত্তিতে উচ্চমানের বিকল্প দেখাতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত চার্জের সঙ্গে যুক্ত নয়। এছাড়া “ডাইরেক্ট অফারস” নামে একটি পাইলট প্রোগ্রাম রয়েছে, যা কম দামের ডিল বা ফ্রি শিপিংয়ের মতো অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে, দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়।
টেকক্রাঞ্চের সঙ্গে আলাপের সময় গুগলের একটি মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, ব্যবসায়িক এজেন্টের এমন কোনো ফাংশন নেই যা বিক্রেতার মূল্যের পরিবর্তন করতে পারে। অর্থাৎ, এআই এজেন্ট নিজে থেকে পণ্যের দাম বাড়াতে পারে না; সব মূল্য তথ্য বিক্রেতার ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি নেওয়া হয়। এই ব্যাখ্যা ওয়েনসের উদ্বেগের মূল দিককে কিছুটা কমিয়ে দেয়, তবে ভোক্তা সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন রয়ে যায়।
এই বিতর্কের মূল বিষয় হল এআই‑চালিত শপিংয়ের স্বচ্ছতা এবং মূল্য নির্ধারণে বিক্রেতা ও প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব। যদি এআই ব্যবহারকারীর ডেটা বিশ্লেষণ করে উচ্চমূল্যের পণ্য সুপারিশ করে, তবে তা ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, গুগলের দাবি অনুযায়ী, সব দামই বিক্রেতার মূল সাইটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং আপসেলিং কেবল বিকল্পের বৈচিত্র্য বাড়ায়।
ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন এই প্রোটোকল কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে, “ব্যক্তিগতকৃত আপসেলিং” কীভাবে কাজ করবে, কোন ডেটা ব্যবহার হবে, এবং তা কি সত্যিই অতিরিক্ত চার্জের দিকে নিয়ে যাবে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। গুগল যদি এই নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলে, তবে এআই‑শপিং ভবিষ্যতে অনলাইন কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গুগলের ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকল এআই‑শপিংয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তবে গ্রাউন্ডওয়ার্কের সতর্কতা ভোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে। গুগল ইতিমধ্যে তার নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তবে বাস্তবায়নের সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি প্রযুক্তি, ভোক্তা অধিকার এবং রিটেল শিল্পের সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে।



