ইউকেতে বিদেশী সচিব ইয়েভেট কুপার ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গৃহযুদ্ধের সময় প্রতিবাদকারীদের ওপর গৃহীত “নির্দয়” হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ইরানীয় দূতকে ডেকেছেন। এই পদক্ষেপটি ইরানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকারবিরোধী প্রতিবাদে সশস্ত্র দমন এবং হাজারো লোকের মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ার পর নেওয়া হয়েছে।
কুপার উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য এই ধরনের হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা এবং দমনকে সম্পূর্ণভাবে ঘৃণা করে এবং বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর সংখ্যা আনুমানিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য ইরানের আর্থিক, জ্বালানি, পরিবহন, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন ও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট রূপ বা কার্যকরির তারিখ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে কুপার যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অতিরিক্ত পদক্ষেপের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে দমনের নিন্দা জানিয়ে, মঙ্গলবার দূতকে ডেকার সিদ্ধান্তকে “ভয়াবহ প্রতিবেদন” এবং “এই মুহূর্তের গুরুত্ব” তুলে ধরেছেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোও একই সময়ে ইরানীয় দূতাবাসকে ডেকেছে। ফ্রান্স, স্পেন, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং জার্মানি সহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর উপর ২৫% আমদানি শুল্ক আরোপের পর অঞ্চলীয় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই নীতি ইরানের অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রতিবাদগুলো ডিসেম্বর মাসে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে শুরু হয়েছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। ইরানের নাগরিকরা জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সমস্যার মুখোমুখি হয়ে রাস্তায় নেমে এসে রাষ্ট্রীয় নীতি ও শাসনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তবে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপে প্রতিবাদকারীদের দমন চালিয়ে যাচ্ছে। সশস্ত্র দলগুলো সরাসরি জনসমাগমে গুলিবর্ষণ করেছে এবং ব্যাপক গ্রেফতার চালু করেছে। এই ধরনের সহিংসতা এবং গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নিন্দার মুখে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইরান সরকার ইন্টারনেটের ব্যাপক বন্ধের ঘোষণা দেয়, যা নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইউকে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।
ইরানের সরকার এই আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং নিষেধাজ্ঞাকে তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখছে। তবু, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ এবং মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও দমনের মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে যুক্তরাজ্য এবং তার মিত্রদের সমন্বিত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সহিংসতা বন্ধ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



