ইন্ডিয়া হাই কমিশন, কলোম্বোতে ভিসা আবেদন সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের টি২০ বিশ্বকাপ দল থেকে পাকিস্তানি উত্সের চারজন খেলোয়াড় এখনও ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায়। আলি খান, শায়ান জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মোহসিন এবং এহসান আদিলের নাম এই বিশেষ ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত, যারা ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন।
খেলোয়াড়রা বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের দলসহ শেষ প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে এবং ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করে। সাক্ষাৎকারের সময় কোনো ভিসা প্রদান করা হয়নি, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যানের তথ্যও প্রকাশিত হয়নি; আবেদনগুলো এখনও পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রয়োজনীয় সব নথি আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে খেলোয়াড়দের জানানো হয় যে এই মুহূর্তে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব নয় এবং পরবর্তী ধাপের জন্য অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা দলকে ভারতীয় দূতাবাস থেকে একটি ফোন কল আসে, যেখানে জানানো হয় যে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যে প্রাপ্ত হয়েছে, তবে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আরও কিছু ইনপুটের অপেক্ষা চলছে। এই তথ্যগুলো সম্পূর্ণ হলে ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে।
দূতাবাসের এই প্রক্রিয়াটি বিশেষ ক্যাটেগরির আবেদনগুলোর জন্য স্বাভাবিক বলে বিবেচিত, এবং ভারত সরকারের প্রোটোকল অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ধাপ পূর্বে পাকিস্তানি উত্সের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জন্যও প্রযোজ্য হয়েছে, যার মধ্যে মুইন আলি এবং শোয়াত আলি উল্লেখযোগ্য।
আলি খানের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে “ভিসা ডিনায়াল” সম্পর্কিত পোস্টের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কিছু ভক্ত ও বিশ্লেষক এই বিষয়টি নিয়ে অনুমান চালিয়ে যান, তবে অফিসিয়াল সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
আইসিসি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দল ভিসা সমস্যার কারণে কোনো প্রস্তুতি ব্যাহত হবে না এবং টুর্নামেন্টের আগে সব খেলোয়াড়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলটি শ্রীলঙ্কায় প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই ভারতীয় মাটিতে পা রাখবে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরেছে, বিশেষ করে যখন খেলোয়াড়ের জাতীয়তা ও উত্সের পার্থক্য থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, সব আবেদনই সমানভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না।
ভবিষ্যতে ভিসা অনুমোদন হলে যুক্তরাষ্ট্রের দল টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করবে এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী তাদের পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুত থাকবে। বর্তমানে খেলোয়াড় ও ব্যবস্থাপনা দল উভয়ই ভিসা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে নজর রাখছে এবং কোনো আপডেট পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে।



