পাবনা জেলার সুজনগর উপজেলা, তান্টিবাঁধ এলাকায় আজ প্রভাতের দিকে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের সন্দেহে, ২৫ বছর বয়সী সাগর শেখ (উপনাম মাসুদ রানা) নামের ব্যক্তি চোরের অভিযোগে গৃহস্থালির কাছাকাছি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বলে ধরা পড়ে। সন্দেহভাজনকে গ্রুপে ঘিরে ধরার পর, প্রায় সকাল পাঁচটায় তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়।
মৃত্যুর শিকার সাগর শেখ হাসামপুর গ্রাম, সুজনগর উপজেলার বাসিন্দা, যিনি রিকশা‑ভ্যান টানা এবং কাঠমিস্ত্রি কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, তিনি কোনো অপরাধের রেকর্ড রাখেন না এবং পূর্বে কোনো চোরাচালান মামলায় জড়িত ছিলেন না।
সকালবেলা তান্টিবাঁধের একটি বাড়ির কাছাকাছি তাকে দেখা যায়, তখনই স্থানীয়দের মধ্যে গবাদি পশু চোরের সন্দেহ ওঠে। সন্দেহের ভিত্তি ছিল, তিনি গরু চুরির অভিযোগে পূর্বে কোনো অভিযোগে জড়িত না থাকলেও, ওই সময়ে গরু পালানোর সম্ভাবনা নিয়ে লোকজনের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়।
সন্দেহভাজনকে তান্টিবাঁধ রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে গিয়ে গ্রুপের সদস্যরা তাড়া করে ধরেন। ধরার পর, তাকে গাছের নিচে নিয়ে গিয়ে বেশ কয়েকজন লোকের হাতে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি শিকড়ে গিয়ে মারা যান, এবং দেহটি পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. খয়ম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করেন এবং তা পাবনা জেনারেল হসপিটালের মরগে পাঠিয়ে অটোপসি করা হয়। অটোপসির ফলাফল জানানো হয়নি, তবে প্রাথমিক রিপোর্টে দেহে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশের মতে, সাগর শেখের বিরুদ্ধে কোনো পূর্বের চোরাচালান মামলা বা অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের বিবরণ ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অধিক তদন্তের পর, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটিকে স্বতঃস্ফূর্ত হিংসা হিসেবে বিবেচনা করে, অপরাধের গুরুতরতা ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তাব দিয়েছে। মামলার অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনগণকে সতর্ক করেছে যে, সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া আইনানুগ নয় এবং এধরনের কাজের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।



