স্কাই টেলিভিশন মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে স্টিগ লারসনের ‘মিলেনিয়াম’ সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু’ এখন আটটি পর্বের টিভি সিরিজ হিসেবে ছোট পর্দায় আসবে। এই প্রকল্পটি লেফট ব্যাংক পিকচার্সের তত্ত্বাবধানে তৈরি হবে, যাঁরা ‘দ্য ক্রাউন’ ও ‘ডিপার্ট কিউ’ মতো সফল সিরিজের পেছনে ছিলেন।
সিরিজটি আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে গল্পকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য রাখে, মূল চরিত্র ও লারসনের তদন্তমূলক শৈলীর ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সমাজের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোকে তুলে ধরবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, যাতে দর্শকরা আজকের বাস্তবতা ও উপন্যাসের থিমের সংযোগ অনুভব করতে পারেন।
‘মিলেনিয়াম’ উপন্যাসগুলো বিশ্বব্যাপী একশো মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি করেছে এবং লারসনের লেখনীকে আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারের শিরোপা এনে দিয়েছে। এই বিশাল জনপ্রিয়তা টিভি সংস্করণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
‘দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু’ প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় রূপ নেয় ২০১১ সালে, যেখানে ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালনা করেন এবং স্ক্রিনরাইটার স্টিভেন জাইলিয়ান লিখেছেন। ড্যানিয়েল ক্রেগ ও রুনি মারা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করে সেই চলচ্চিত্রটি নীয়ো-নোয়ার শৈলীর থ্রিলার হিসেবে প্রশংসিত হয়।
এর পর ২০১৮ সালে ‘দ্য গার্ল ইন দ্য স্পাইডারস ওয়েব’ নামে একটি সিক্যুয়েল তৈরি হয়, যা ফেডে আলভারেজ পরিচালনা করেন। এই দুই চলচ্চিত্রের সাফল্য টিভি সংস্করণের জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছে।
টিভি সিরিজের কাস্টিং সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে শ্যুটিং কাজের সূচনা লিথুয়ানিয়ায় বসন্তকালে নির্ধারিত হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবহার করে দৃশ্যপট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
লেখা ও এক্সিকিউটিভ প্রোডাকশন দায়িত্বে রয়েছেন স্টিভ লাইটফুট, যিনি ‘দ্য পানিশার’, ‘বিহাইন্ড হার আইস’ এবং ‘স্পাইডার-নোয়ার’ প্রজেক্টে কাজ করেছেন, এবং অ্যাঞ্জেলা লামানা, যাঁর ‘দ্য হন্টিং অফ ব্লি ম্যানর’ ও ‘বিহাইন্ড হার আইস’ তে অভিজ্ঞতা রয়েছে। উভয়ই সিরিজের গল্প গঠন ও গুণগত মান নিশ্চিত করবেন।
অতিরিক্ত এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে লেফট ব্যাংক পিকচার্সের অ্যান্ডি হ্যারিস, শার্লট মোর্স এবং জন ফিলিপ্স, পাশাপাশি স্কাইয়ের প্রতিনিধিত্বকারী স্যাম হয়ল যুক্ত আছেন। এই দলটি প্রকল্পের আর্থিক, সৃজনশীল ও বিতরণ সংক্রান্ত দিকগুলো সমন্বয় করবে।
সিরিজটি স্কাইয়ের প্ল্যাটফর্মে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ায় সম্প্রচারিত হবে। এই অঞ্চলগুলোতে স্কাইয়ের বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠী রয়েছে, যা নতুন সিরিজের জন্য শক্তিশালী বাজার নিশ্চিত করে।
আন্তর্জাতিক বিতরণ সনি পিকচার্স টেলিভিশন পরিচালনা করবে এবং ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-সেল চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিরিজটি গ্লোবাল দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে।
প্রশংসিত উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা হিসেবে এই টিভি সংস্করণটি ভক্তদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ ও আধুনিক উপস্থাপনা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্যুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে, তাই অনুরূপ খবরের জন্য নজর রাখুন।
সিরিজের মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত না হলেও, আগ্রহী দর্শকরা স্কাইয়ের অফিসিয়াল চ্যানেল ও সামাজিক মিডিয়া পেজে আপডেট অনুসরণ করে সময়মতো তথ্য পেতে পারেন। নতুন সংস্করণে উপন্যাসের মূল থিমের সঙ্গে সমসাময়িক সামাজিক বিষয়ের সংযোগ কীভাবে ঘটবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা যায়।



