যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মিশর, লেবানন এবং জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়, যা ইসরায়েলের প্রতিবেশী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কঠোর নীতি অনুসরণের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের আদেশের কয়েক সপ্তাহ পরই এই তালিকাভুক্তি কার্যকর করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে প্রশাসনকে এই গোষ্ঠীগুলোকে কালো তালিকায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মারকো রুবিও একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা মোকাবেলায় চলমান প্রচেষ্টার প্রাথমিক পদক্ষেপ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই শাখাগুলোকে আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করতে সব উপলব্ধ উপায় ব্যবহার করবে।
মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯২৮ সালে মিশরের পণ্ডিত হাসান আল‑বান্না প্রতিষ্ঠা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শাখা গড়ে তুলেছে। সংগঠনটি নিজেকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য নিবেদিত বলে দাবি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তার কিছু শাখা সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতি বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মোড় নিতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও তার প্রতিবেশী গোষ্ঠীর ওপর কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন।
মার্কিন সরকার এই তালিকাভুক্তি কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সিস্টেমে শাখাগুলোর প্রবেশ সীমাবদ্ধ করবে। রুবিও উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল মুসলিম ব্রাদারহুডের আর্থিক কাঠামোকে দুর্বল করা এবং তার কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করা।
মিশর, লেবানন এবং জর্ডানের সরকারগুলো এই ঘোষণার পর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পূর্বে এই দেশগুলো মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, ফলে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের অভ্যন্তরীণ নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। সংগঠনটি পূর্বে কিছু দেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার দাবি করলেও, এখন তার আর্থিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে বাধা আসতে পারে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন, এই ধরনের তালিকাভুক্তি গোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনকে দমন করার জন্য প্রয়োজনীয়, অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী এটিকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে দেখছে।
মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নীতি ইসরায়েলের সঙ্গে তার কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার কূটনৈতিক সমন্বয়কে জটিল করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম ব্রাদারহুডের আর্থিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক গতিপথে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই তালিকাভুক্তি কার্যকর করবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কীভাবে সাড়া দেবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



