গাজীপুরের হাইড্রাবাদে একটি গোপন ঘোড়া কাতল ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম নভেম্বর ২০২৫-এ মোবাইল কোর্টের তদবিরে প্রকাশ পায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি তুলা কারখানার ভিতরে গোপন কাতল ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে অসুস্থ ঘোড়া ও মৃতদেহের সঙ্গে বড় পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত মাংস সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
তদন্তে জানা যায়, কাতল ঘাঁটিতে বহু ঘোড়া গুরুতর রোগে আক্রান্ত অবস্থায় ছিল, আর কিছু ইতিমধ্যে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। মাংসকে গরুর মাংসের নামে বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছিল, যা গ্রাহকদের জন্য গোপনীয়তা বজায় রাখে।
অঞ্চলীয় প্রশাসন অবহায়রোন্নোকে জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে অনুরোধ করে। সংগঠনটি অবিলম্বে প্রাণী রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে, যাতে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
প্রাণী চিকিৎসক ও ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোড়াগুলোতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, পরজীবী সংক্রমণ এবং টিবি রোগের সন্দেহজনক চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। টিবি একটি সংক্রামক রোগ, যা মানবদেহে স্থানান্তরিত হতে পারে, ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘোড়া মাংস প্রক্রিয়াকরণের পর গরুর মাংসের মতোই রঙ ও গঠন ধারণ করে, ফলে গ্রাহকরা সহজে পার্থক্য করতে পারে না। এই ধরনের ভুয়া পণ্য বাজারে প্রবেশ করলে ভোক্তারা অজান্তেই রোগজীবাণু গ্রহণের ঝুঁকিতে পড়ে।
সাইটের পরিবেশগত অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌলিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মৃতদেহ ও কাঁচা মাংসের আলাদা সংরক্ষণ ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এ ধরনের অবহেলা মাইক্রোবিয়াল দূষণ ও জূন্যোটিক রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে, যা মাংস হ্যান্ডলিং কর্মী এবং শেষ গ্রাহকের দুজনেরই স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
অবহায়রোন্নোর প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ উল্লেখ করেন, এই ঘটনা খাদ্য জালিয়াতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, মানুষকে তাদের পরিবারের খাবার সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে, আর গোপনে রোগাক্রান্ত প্রাণীকে গরুর মাংসের ছদ্মবেশে বিক্রি করা এই বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করে।
গাজীপুরে মার্চ ২০২৫ থেকে অবৈধ ঘোড়া কাতল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে এই প্রথা একক ঘটনা নয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা না থাকায় কতটুকু দূষিত মাংস ইতিমধ্যে বাজারে পৌঁছেছে তা নির্ণয় করা কঠিন। এই অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
অবহায়রোন্নো এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি এখনো জনসাধারণকে সতর্ক করতে আহ্বান জানাচ্ছে, বিশেষ করে মাংসের উৎস ও গুণগত মান যাচাই করার জন্য স্থানীয় বাজারে বিক্রিত পণ্যের লেবেল পরীক্ষা করতে।
অবশেষে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, ঘোড়া মাংসের সম্ভাব্য উপস্থিতি সন্দেহ হলে তা গ্রহণ না করা এবং স্বীকৃত সরবরাহকারী থেকে কেনা পণ্য বেছে নেওয়া। সরকারকে ত্বরিতভাবে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে, নিয়মিত তদারকি ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা পায় এবং খাদ্য বাজারে বিশ্বাস পুনর্স্থাপন হয়।



