চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সোমবার ইরানে চলমান অস্থিরতা সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন, দেশটি বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে। ইরানে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ সম্প্রতি তীব্রতর হয়েছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। চীন এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে, কোনো চীনা নাগরিকের ক্ষতি বা আঘাতের খবর না পেয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পরিধি বাড়ছে, প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন শহরে সড়ক বন্ধ করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইরানের স্থিতিশীলতা তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে।
মাও নিংের মতে, চীন ইরানের নিরাপত্তা অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সক্রিয় এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি সমন্বয় করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চীনের অগ্রাধিকার, এবং তাই দেশের দূতাবাস ও কনসুলেটগুলোকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কোনো চীনা নাগরিকের মৃত্যু বা আঘাতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চীনা নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তারা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিশেষ করে, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি থেকে দূরে থাকা emphasized করা হয়েছে। এছাড়া, জরুরি অবস্থায় চীনা দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর প্রদান করা হয়েছে।
চীনা নাগরিকদের জন্য কনসুলার হটলাইন এবং দূতাবাসের যোগাযোগের তথ্য স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যাতে তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে দ্রুত সহায়তা পেতে পারে। দূতাবাসের কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত। এই ধরনের কনসুলার সেবা চীনের বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের সুরক্ষার প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
চীন ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, এই সতর্কতা ও সহায়তা ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই চীন পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন করে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভবিষ্যতে, যদি ইরানের নিরাপত্তা অবস্থা আরও অবনতি করে, চীন তার নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ বা প্রয়োজনীয় হলে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করতে পারে। একই সঙ্গে, চীন ইরানের সরকারকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে।
সারসংক্ষেপে, চীন ইরানের বর্তমান অস্থিরতা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কোনো চীনা নাগরিকের ক্ষতি না জানিয়ে সতর্কতা ও সহায়তার নির্দেশনা প্রদান করেছে, এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুযায়ী কূটনৈতিক ও কনসুলার পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



