মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় শীর্ষে পৌঁছেছে। টানা দ্বিতীয় দিন ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ে এবং প্রতি আউন্সে প্রায় ৪৬০০ ডলারে স্থিত হয়, যা ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ সীমা। একই দিনে স্পট স্বর্ণ ০.২ শতাংশ বাড়ে এবং ৪,৬০১.৬৩ ডলারে লেনদেন হয়।
পূর্ববর্তী সেশনে স্বর্ণের দাম ৪,৬২৯.৯৪ ডলার স্পর্শ করেছিল, যা পূর্বের রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য স্বর্ণ ফিউচারসও ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৬১০.৩০ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও ইরানের চারপাশে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মন্তব্য ডলারের মানে সামান্য পরিবর্তন এনেছে। এই পরিস্থিতি, পাশাপাশি প্রকাশিত হতে যাওয়া ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) তথ্য, স্বর্ণের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্টের মতে, নিকট ভবিষ্যতে মুদ্রানীতির দিক পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর তাত্ক্ষণিক কোনো চাপ নেই, তবে বাজারে এই বছর দুইবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সুদের হার কমে যাওয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে স্বর্ণের দাম ৪,৫০০ ডলারের উপরে স্থিতিশীল, এবং ডলারের দুর্বলতা ও চলমান অস্থিরতা $5,000 স্তরের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, স্বর্ণের দাম বছরের প্রথমার্ধে $5,000 সীমা পরীক্ষা করতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এই প্রত্যাশা বাজারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।
মার্জিনের প্রয়োজনীয়তা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই গ্রুপ ঘোষণা করেছে যে, মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে তারা মার্জিন নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনবে। এই পদক্ষেপটি বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে।
রুপার দিকেও উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২.৩ শতাংশ বাড়ে এবং প্রতি আউন্সে ৮৬.৯৪ ডলারে পৌঁছায়, যা পূর্বের রেকর্ড ৮৭.১৬ ডলারের কাছাকাছি। রুপার দামও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা বাড়ার ফলে উপরে উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে, স্বর্ণ ও রুপার দামের এই উত্থান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের সরাসরি প্রতিফলন। বিনিয়োগকারীরা উচ্চ ঝুঁকির সময়ে নিরাপদ সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছেন, যা বাজারের তরলতা ও মূল্য গঠনে প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, সুদের হার কমে যাওয়া এবং ডলারের অবনতি স্বর্ণের দামকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে, তবে একই সঙ্গে বাজারের অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে, স্বর্ণ ও রুপার দামকে ঘিরে বাজারের গতিবিধি আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতি, মুদ্রা বাজারের পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে দামের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।



