20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দরে নয়জন জুলাই যোদ্ধা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, মাসিক বেতন ও দপ্তরাদেশে পদোন্নতি

চট্টগ্রাম বন্দরে নয়জন জুলাই যোদ্ধা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, মাসিক বেতন ও দপ্তরাদেশে পদোন্নতি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত সোমবার নয়জন জুলাই যোদ্ধাকে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ করেছে, যা গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত দপ্তরাদেশে নিশ্চিত করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই চিফ পারসোনেল অফিসারের দপ্তরাদেশে তাদের পদোন্নয়ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দপ্তরাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গেজেটভুক্ত এই জুলাই যোদ্ধাদেরকে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগে প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী ও সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হবে। নির্দিষ্ট বিভাগগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রশাসন বিভাগ, নৌ-বিভাগ, নৌ-প্রকৌশল বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ, অর্থ ও হিসাব বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত।

বেতন কাঠামোও দপ্তরাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগীদের মাসিক বেতন ২৬,৬৩৬ টাকা, আর সহকারীদের বেতন প্রায় ২১,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই বেতন ব্যবস্থা গেজেটের আওতায় থাকা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য প্রযোজ্য, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের নামও দপ্তরাদেশে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আরবী মোহাম্মদ আল মিরাজ, মোহাম্মদ সাকিল, মো. মেহেরাজ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মো. শেফাতুল কাদের, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, মো. আমির হোসেন এবং মো. ইব্রাহীম। এ সকল ব্যক্তি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে একত্রিত হয়ে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাসিক ভিত্তিতে কর্মীদের হাজিরা শিট প্রশাসন বিভাগে পাঠাবে। হাজিরা শিটের ভিত্তিতে প্রশাসন বিভাগ সেবামূল্যের বিল প্রস্তুত করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে প্রেরণ করবে, যা পরে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক সেবামূল্য পরিশোধ করবে। এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও সময়মত পেমেন্ট নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে।

দপ্তরাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চুক্তিবদ্ধ প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী ও সহকারীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পেমেন্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং কোনো বিলম্ব না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক দপ্তরাদেশে জানিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নয়জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুসারে তারা নির্ধারিত থোক টাকা পাবেন। এই ব্যবস্থা কর্মশক্তির চাহিদা মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার একটি উদাহরণ।

বন্দরে স্থায়ী পদে নিয়োগের জন্য সাধারণত প্রথমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, এরপর প্রার্থীরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়। তবে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সরাসরি আবেদন ও দপ্তরাদেশের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নয়ন করা হয়েছে, যা সময় ও সম্পদের দিক থেকে দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আউটসোর্সিং নীতি অনুসরণ করে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রম ব্যয় কমাতে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা দ্রুত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী বেতন ও সুবিধা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা হ্রাস পায়, ফলে বাজেটের উপর চাপ কমে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী হিসেবে নিয়োগিত কর্মীরা নির্দিষ্ট প্রকল্পে কাজ করে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, যা বন্দরের কার্যক্ষমতা ও সেবা মান উন্নত করতে সহায়ক।

ভবিষ্যতে এই ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বাড়তে পারে, বিশেষত যখন বন্দরের কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত কর্মশক্তি প্রয়োজন হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কর্মীসংখ্যা ও দক্ষতা বজায় রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে। সংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দরের এই পদক্ষেপ শ্রম বাজারে স্বল্পমেয়াদী নমনীয়তা এনে দেয়, তবে স্থায়ী মানবসম্পদ গঠনের জন্য সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments