চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) জানিয়েছে যে, মোট নয়জন গেজেটেড “জুলাই যোদ্ধা”কে বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষণ সেবা সহকারী হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক আদেশটি ১২ জানুয়ারি, চিফ পার্সোনেল অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়।
CPA বোর্ডের ৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখের বৈঠকে এই নয়জন কর্মীর নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে অস্থায়ী পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যার মধ্যে প্রশাসনিক বিভাগও অন্তর্ভুক্ত।
নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম হল: আরাবি মোহাম্মদ আল মিরাজ, মোহাম্মদ সাকিল, মোঃ মেহরাজ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মোঃ শেফাতুল কাদের, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, মোঃ আমির হোসেন এবং মোঃ ইব্রাহিম।
CPA-র প্রশাসনিক পরিচালক মোঃ ওমর ফারুকের মতে, জুলাই যোদ্ধারা পূর্বে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মসংস্থানের আবেদন জমা দিয়েছিলেন এবং সেই আবেদনগুলোই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়োগের মেয়াদ এক বছরের জন্য নির্ধারিত, যা আর্থিক মন্ত্রণালয়ের সেবা কর্মী আউটসোর্সিং নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পদগুলো রাজস্বের অংশ হিসেবে গণ্য হয় না এবং “কাজ না করলে বেতন না” নীতির অধীনে একত্রিত বেতন প্রদান করা হবে।
ভবিষ্যতে স্থায়ী পদে রূপান্তরের জন্য, নিয়োগপ্রাপ্তদের কোনো সময়ে প্রকাশ্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অফিস আদেশে উল্লেখ আছে যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাসিকভাবে উপস্থিতি শিট প্রশাসনিক বিভাগে জমা দেবে। এই শিটের ভিত্তিতে প্রশাসন সেবা বিল প্রস্তুত করে আর্থিক ও হিসাব বিভাগে পাঠাবে, যা পরবর্তীতে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক পেমেন্ট নিশ্চিত করবে।
অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে CPA তার মানবসম্পদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, বিশেষ করে আউটসোর্সিং নীতির অধীনে খরচের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে। এক বছরের সীমিত মেয়াদে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদী কর্মী পরিকল্পনার জন্য তথ্য সরবরাহ করে।
তবে, অস্থায়ী কর্মীর অনিশ্চয়তা ও উচ্চ টার্নওভার রেট বন্দর পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে সেবা মানের অবনতি ঘটার ঝুঁকি থাকে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের অস্থায়ী নিয়োগ আর্থিক মন্ত্রণালয়ের আউটসোর্সিং নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি সংস্থার ব্যয় কাঠামোকে নমনীয় করে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না করা হলে বেতন ও সুবিধা সংক্রান্ত শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকে।
ভবিষ্যতে যদি এই নয়জন কর্মী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্থায়ী পদে রূপান্তরিত হয়, তবে তা বন্দর পরিচালনার অভ্যন্তরীণ দক্ষতা ও কর্মী সন্তুষ্টি বাড়াতে সহায়ক হবে। অন্যথায়, নিয়োগের মেয়াদ শেষের পর পুনরায় নতুন কর্মী সংগ্রহের প্রয়োজন হবে, যা পুনরায় প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী প্রশিক্ষণ সহকারী নিয়োগটি আর্থিক নীতি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে গৃহীত একটি পদক্ষেপ, যার সফলতা নির্ভর করবে কর্মী পারফরম্যান্স, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ স্থায়ী নিয়োগের সুযোগের ওপর।



